অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পলিট্রমা রোগীরা
শরীরে একাধিক আঘাত থাকলেই রেফারেল ট্র্যাপে পড়তে হয় রোগীকে © এআই নির্মিত
সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত নিয়ে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন তাজুল ইসলাম। কিন্তু কোনো সেবা ছাড়াই হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তাকে পরামর্শ দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কিংবা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) যেতে। ওই দিনই ঢামেকের জরুরি বিভাগে আসেন তিনি। আঘাত গুরুতর না হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার ক্ষত সেলাই এবং ড্রেসিং করে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। অথচ এই প্রাথমিক সেবাটুকুও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাননি তাজুল।
অপরদিকে পরদিন অন্য এক ঘটনায় মারধরে আহত হয়ে অনিক নামে আরেক যুবক চিকিৎসা নিতে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তার রক্তনালি কেটে গিয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্রের তথ্যমতে, জরুরি ভাস্কুলার সার্জারি বা রক্তনালির অস্ত্রোপচার সুবিধা না থাকায় তাকে রেফার করা হয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ অ্যান্ড হসপিটাল (এনআইসিভিডি) বা জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে।
মূলত, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত রোগের সমন্বিত চিকিৎসা সুবিধা সম্বলিত কোনো হাসপাতাল তৈরি না হওয়ায় প্রতিদিনই তাজুল কিংবা অনিকের মতো বহু রোগীকে এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘুরতে হচ্ছে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরে একটিমাত্র আঘাত বা ট্রমা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা এই দুই রোগীর চিকিৎসাসেবার অবস্থা যখন এমন, তখন ‘পলিট্রমা’ বা একই সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত বা জখম নিয়ে আসা রোগীদের পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—তা কল্পনাতীত। ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই এমন বহু রোগী আসেন যারা সড়ক দুর্ঘটনা অথবা উঁচু ভবন বা গাছ থেকে পড়ে বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এ ছাড়া মারামারি ও সংঘর্ষে বিভিন্ন অঙ্গের আঘাত নিয়েও রোগীরা নিয়মিত হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এ ধরনের পলিট্রমা রোগীর সমন্বিত চিকিৎসা দেশের কোনো হাসপাতালে নেই। ফলে একেক অঙ্গের চিকিৎসার জন্য একেক বিশেষায়িত হাসপাতালে ছুটোছুটি করতে হয় রোগীকে।
পলিট্রমার ভয়াবহতা
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তত দুটি মারাত্মক আঘাতের সাথে সাথে যখন শরীরের রক্তচাপ কমে যাওয়া বা রক্ত জমাট বাঁধার মতো সমস্যা তৈরি হয়, তখনই তা পলিট্রমা। জীবন বাঁচানোর জন্য এ ধরনের রোগীকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
পলিট্রমা রোগীর চিকিৎসা কোনো একটি বিভাগ বা হাসপাতালের পক্ষে এককভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। একজন রোগীর একই সঙ্গে মাথা, বুক, পেট, মেরুদণ্ড, হাড়, রক্তনালি ও চোখে গুরুতর আঘাত থাকতে পারে। বর্তমানে এসব রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয়। এতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়— অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, সদস্য, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন
২০২২ সালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) হাড় ও মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত পলিট্রমা রোগীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পলিট্রমা রোগীর ৬৫ শতাংশই ছিলেন পুরুষ। তাদের আঘাতের প্রধান কারণ ছিল সড়ক দুর্ঘটনা (৬০%)। এরপর উঁচু স্থান থেকে পতন (২৩.৩%) এবং হামলা বা সহিংসতা (১০%)। এর মধ্যে ৪৬.৭ শতাংশ রোগী প্রথম ১ ঘণ্টা বা গোল্ডেন আওয়ারে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি।
এদের মধ্যে হাত-পায়ের লম্বা হাড় ভাঙার হার ছিল সবচেয়ে বেশি (৫১.৭%), যার পর ছিল মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙা (১৮.৩%) এবং কোমর বা নিতম্বের হাড় ভাঙা (১৫.০%)। এ ছাড়া ৩০ শতাংশ রোগীর শরীরে একাধিক হাড় ভাঙার ঘটনা ছিল। স্নায়বিক আঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মস্তিষ্কের আঘাত (৪৬.৭%); এরপর মেরুদণ্ডের কর্ডে আঘাত (২০%) এবং প্রান্তীয় স্নায়ুর আঘাত (১১.৭%)। তবে এই গবেষণায় অন্যান্য আঘাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর ট্রমাজনিত কারণে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়; যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পতন এবং অভ্যন্তরীণ বা সামাজিক সহিংসতা প্রধান ভূমিকা রাখে। ট্রমাজনিত মৃত্যুর ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
দেশে কত শতাংশ মৃত্যু ট্রমাজনিত কারণে হয়, তার সুস্পষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীকল্যাণ সমিতির ২০২৫ সালের বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এক বছরে সারাদেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও ট্রমার আরও অন্যান্য উৎস থাকায় এই পরিসংখ্যান এককভাবে ট্রমাজনিত মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই ট্রমার রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারেন। বিশেষ করে যেসব হাসপাতালে ট্রমার সঙ্গে সম্পর্কিত চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিদ্যমান, সেসব হাসপাতালে এ ধরনের রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ট্রমার গুরুত্ব বিবেচনায় এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে ২৪টি ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২০ বছরেও ট্রমা সেন্টারগুলো সচল হয়নি। সম্প্রতি ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে এসব প্রতিষ্ঠান নতুন করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে প্রাথমিক চিকিৎসা মিললেও দেশের কোনো হাসপাতালেই পলিট্রমা রোগীদের সমন্বিত চিকিৎসা মেলে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের রোগীর চিকিৎসায় সমন্বিত টিম থাকলে সবচেয়ে কার্যকর হয়। কিন্তু দেশে এমন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জনমুখী, সমন্বিত ও বিকেন্দ্রীকৃত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশে একটি কার্যকর জাতীয় জরুরী সবা তথা ট্রমা কেয়ার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা জরুরি— অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, সদস্য, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন
ধরা যাক—দেশের কোনো একটি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজন রোগীর পা প্রায় থেঁতলে গেছে। হাড় ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ, মাংসপেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। নিকটবর্তী যেকোনো সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীটিকে ঢাকায় রেফার করা হবে। বিপুল অর্থমূল্য দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মুমূর্ষু এই রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেল, তার পায়ের কোনো রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি বিবেচনায় অন্যান্য চিকিৎসার আগে অঙ্গটি বাঁচাতে এই রোগীকে রেফার করা হবে হৃদরোগ হাসপাতালে।
ওই হাসপাতালে রক্তনালির চিকিৎসা শেষে ভাঙা ও চূর্ণবিচূর্ণ হাড়ের চিকিৎসার জন্য এবার পাঠানো হলো পঙ্গু হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানা গেল, রোগীর মাথায়ও আঘাত রয়েছে। এ সময় রোগীকে নেওয়া হবে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (নিন্স)। চোখে আঘাত পেলে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালেও নিতে হতে পারে। এভাবে গুরুতর আহত রোগীকে একেক আঘাতের জন্য চক্কর লাগাতে হবে একেক হাসপাতালে। আর মুখমণ্ডল ও চোয়ালে আঘাত থাকলে আবার ম্যাক্সিলোফেসিয়াল চিকিৎসার জন্য ছুটতে হবে অন্য কোথাও। ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ প্রয়োজন হলে সে তো আরেক যুদ্ধ।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রমা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবগুলো ডিপার্টমেন্ট থাকলেও দক্ষ জনবল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে পলিট্রমার রোগীদের জরুরি চিকিৎসা এক ছাতার নিচে সম্ভব হয় না। এতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালের রেফারেল ট্র্যাপে পড়ে নষ্ট হচ্ছে রোগীর গোল্ডেন আওয়ার। ফলে অঙ্গহানি, পঙ্গুত্ব—এমনকি মৃত্যুও ঘটছে অনেক রোগীর। নিটোরে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, সমন্বিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে পলিট্রমা রোগীর মৃত্যুর হার ১১.৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন মনে করেন, এ ধরনের রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জনমুখী, সমন্বিত ও বিকেন্দ্রীকৃত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশে একটি কার্যকর জাতীয় জরুরি সেবা তথা ট্রমা কেয়ার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অধ্যাপক সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পলিট্রমা রোগীর চিকিৎসা কোনো একটি বিভাগ বা হাসপাতালের পক্ষে এককভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। একজন রোগীর একই সঙ্গে মাথা, বুক, পেট, মেরুদণ্ড, হাড়, রক্তনালি ও চোখে গুরুতর আঘাত থাকতে পারে। বর্তমানে এসব রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয়। এতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় পলিট্রমা সেন্টার এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমন্বিত ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। এসব কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকস, জেনারেল ও ভাস্কুলার সার্জারি, চক্ষু, অ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি, রক্তসঞ্চালন ও পুনর্বাসনসেবা একই ছাদের নিচে নিশ্চিত করতে হবে।
একেক আঘাতের জন্য একেক হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। আপাতত এটা অ্যাভোয়েড করার উপায় খুব কম। ইমিডিয়েট কোনো মেজার নেওয়া তো সম্ভব না, আস্তে আস্তে হতে হবে— সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
পাশাপাশি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ও প্রি-হসপিটাল কেয়ার, প্রশিক্ষিত ট্রমা টিম, নির্ধারিত ট্রায়াজ ও রেফারেল প্রটোকল, কেন্দ্রীয় হটলাইন এবং জাতীয় ট্রমা রেজিস্ট্রি চালু করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক আকরাম হোসেন। তার মতে, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিদ্যমান বড় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি সমন্বিত রেফারেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, পলিট্রমা ব্যবস্থাপনাকে বিচ্ছিন্ন বিভাগীয় সেবা হিসেবে নয়, বরং একটি সমন্বিত ও বিকেন্দ্রীকৃত জাতীয় ট্রমা-কেয়ার ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এখনই ভাবছে না সরকার
সরকার মহাসড়কগুলোতে ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিলেও পলিট্রমা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। পলিট্রমা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এমন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন। ডা. মো. নুরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আবার বাস্তবতাও আছে। অন্তত হাসপাতালগুলো যদি রোগীকে এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতালে রেফার না করে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে আসে, এভাবেও করা যায়। কারণ সব হাসপাতালে সব ডিপার্টমেন্ট খোলা তো অনেক বড় ব্যাপার। এভাবে সমন্বয় সাধন করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম পামী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পলিট্রমার জন্য আলাদা কোনো ইনস্টিটিউট নাই। তবে যেসব জায়গায় ক্যাজুয়ালটি আছে এবং নিটোর (পঙ্গু)—এগুলোতে এর চিকিৎসা সম্ভব। মেডিকেল কলেজে তো সবগুলো ডিপার্টমেন্টই আছে।
একই মত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর। বলছেন, ধীরে ধীরে সব হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, একেক আঘাতের জন্য একেক হাসপাতালে নিতে হচ্ছে—আপাতত এটা অ্যাভোয়েড করার উপায় খুব কম। তবে যতটুকু সম্ভব—এক হাসপাতালেই চিকিৎসা হচ্ছে, গুরুতর হলে তখন অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এতে রোগীকে ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে দৌঁড়াতে হয় এবং বিপুল সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এর সাথে একমত। তবে ইমিডিয়েট কোনো মেজার নেওয়া তো সম্ভব না, আস্তে আস্তে হতে হবে। আমরা আগের তুলনায় অনেকটা ডেভেলপ করেছি। রোগীরা সন্তুষ্ট হচ্ছে—যত জায়গায় যাচ্ছি, সবখানে রোগীরা বলে। আমরা আস্তে আস্তে করার চেষ্টা করছি। বাকিটা আপনারা সহযোগিতা করবেন।