প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দলটির নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৩ জুলাই (শুক্রবার) প্রতিনিধি দলটি তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছিল এবং চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশ আলোচনাও চালিয়ে আসছিল। তবে এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের কারণে এই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এমন থমথমে পরিস্থিতির মাঝেই তেহরান সরকার ঘোষণা করেছে যে, সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। তেহরান, কোমে ও মাশহাদ—এই তিনটি ঐতিহাসিক শহরে কয়েক দিন ধরে এই আনুষ্ঠানিকতা চলবে। ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ৯ জুলাই আলী খামেনিকে তাঁর নিজ শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা (রহ.) মাজারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী গভীর শোক প্রকাশ করে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে গিয়ে শোক বইয়ে সই করেছিল। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও খামেনিকে শহীদ আখ্যা দিয়ে একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই শহীদ খামেনির শেষ বিদায় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তাঁদের প্রতিনিধিরা। নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই দলে আরও থাকছেন জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. নুরুল আমীন ও ড. মো. কেরামত আলী এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তেহরান সফরকালে এই প্রতিনিধি দলটি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন।