ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জাপানের বিপক্ষে নক-আউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের চিরচেনা ও স্বভাবসুলভ মেজাজেই ধরা দিলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সোমবার (২৯ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন— ম্যাচটিকে ‘জীবন-মরণ লড়াই’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি তার খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার কোনো পরিকল্পনা করছেন কি-না? এই প্রথাগত প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি এমন এক মোড় নিলেন, যা সবাইকে চমকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা এভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারত না। আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিফার ওপর ভীষণ বিরক্ত। তারা ভালো করেই জানত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে কী করতে যাচ্ছে (রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে), তাই তাদের উচিত হয়নি তিনটি ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিডিউল করা। সবকিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল।
চলতি বিশ্বকাপে ফুটবলীয় লড়াইয়ের বাইরেও মার্কিন ভেন্যুগুলোর ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়ে যে বিতর্ক চলছে, আনচেলত্তির এই মন্তব্য যেন তাতে নতুন করে ঘি ঢালল।
নেইমারকে নিয়ে ধোঁয়াশা?
সংবাদ সম্মেলনে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আবারও দাবি করেন, নেইমার আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ১৫ মিনিটের চেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ফুটবল বিশ্লেষক নিক মিলার রসিকতা করে মনে করিয়ে দিয়েছেন, স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগেও এই বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখানোর ব্যাপারে আনচেলত্তি বলেছিলেন, নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্যই প্রস্তুত। ফলে আজ মোরিয়াসুর চতুর জাপানের বিপক্ষে আনচেলত্তি আসলে নেইমারকে নিয়ে কী চাল চালবেন, তা ম্যাচ শুরু না হওয়া পর্যন্ত এক বড় রহস্যই থেকে যাচ্ছে।
কাগজে-কলমে এবং দর্শকদের ভোটে সেলেসাওরা ফেভারিট হলেও, হিউস্টনের মাঠে আজ আনচেলত্তির চেনা একাদশ বনাম জাপানের ১০০ স্কুলছাত্রকে হারানোর সেই ‘ট্যাক্টিক্যাল মাস্টারক্লাস’ কৌশলের মধ্যে কে শেষ হাসি হাসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।