রিয়ালে মাদ্রিদে কড়াকড়ি নিয়ম চালু করেছেন মরিনিও

১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ AM
 রিয়াল মাদ্রিদের কোচ মরিনিও

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ মরিনিও © সংগৃহীত

গত মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কেই বেশি আলোচনায় ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তার প্রভাব পড়েছিল মাঠেও। শেষ পর্যন্ত কোনো ট্রফি না জিতেই মৌসুম শেষ করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কোচের পরিবর্তনের পর এবার নতুন মৌসুম শুরুর আগেই সেই অস্থিরতা কাটিয়ে ড্রেসিংরুমে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন জোসে মরিনিও। আর সে লক্ষ্যেই রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম চালু করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার রিয়ালের ডাগআউটে ফিরেছেন মরিনিও। ক্লাবটিতে তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শিরোপা জিতেছিল রিয়াল। তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিরোধ ও ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শেষটা হয়েছিল হতাশাজনক। এবার জাবি আলোনসোর সংক্ষিপ্ত অধ্যায় এবং অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার বিদায়ের পর দল সামলানোর দায়িত্ব আবারও মরিনিওর হাতে তুলে দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। অহংয়ের লড়াই ও অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফেরাতেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাক্‌-মৌসুম প্রস্তুতি চলার সময়ই ভালদেবেবাসের অনুশীলন মাঠে নিজের নিয়ন্ত্রণের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন মরিনিও। স্পেনভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক এএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন স্বাচ্ছন্দ্য কমিয়ে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন রুটিনে পরিবর্তন এনেছেন রিয়াল কোচ। পুষ্টি, চোটের পুনর্বাসন এবং সময়মতো উপস্থিতির মতো বিষয়গুলোতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি।

খাবারের ক্ষেত্রেও ফুটবলারদের স্বাধীনতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে পারবেন না খেলোয়াড়েরা। ক্লাবের পুষ্টিবিদই ঠিক করে দেবেন সকালের নাশতা ও বিকেলের খাবারের তালিকা। খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং মাঠে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য। আগে খাবারের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা থাকলেও নতুন নিয়মকে দল ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে বলে জানিয়েছে এএস।

সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে নির্ধারিত সময়ের পরে অনুশীলনে এলে খেলোয়াড়দের জরিমানা করা হতো। এখন সেই নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। দেরি করে এলে অনুশীলনে অংশ নেওয়ার সুযোগই থাকবে না। ওই খেলোয়াড়কে একা জিমে অনুশীলন করতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, অনুশীলন কিংবা দলীয় সভার নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভালদেবেবাসে উপস্থিত থাকা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারত্ব আরও বাড়াতে চাইছেন মরিনিও।

চিকিৎসা ও চোটের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রিয়াল কোচ। খেলোয়াড়দের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া ক্লাবের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হবে। এতে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার ওপর ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মরিনিওর এসব কড়াকড়ি অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই মেনে নিয়েছেন রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। বরং ড্রেসিংরুমে ঐক্য ফেরানোর এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের পছন্দ হয়েছে বলেই জানিয়েছে এএস। দলটির বর্তমান পরিবেশ নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের কাছ থেকে।

এএস-এর প্রতিবেদনে রিয়ালের ওই অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘ক্লাবের এখনকার পরিবেশ সত্যিই খুব, খুব ভালো।’

মরিনিওর এই কঠোর নিয়মগুলো মূলত শুধু অনুশীলন বা খাবারের রুটিনে পরিবর্তন আনার জন্য নয়। গত মৌসুমে মাঠের বাইরে যে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রিয়ালকে বারবার আলোচনায় এনেছিল, সেটি যেন নতুন মৌসুমে আর দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যেই শুরু থেকে ড্রেসিংরুমের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি।

রিয়ালে মরিনিওর প্রথম মেয়াদেও শৃঙ্খলা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ তাঁর কোচিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। তবে সেই সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।

প্রাক্‌-মৌসুমেই মরিনিও নিজের নিয়ম পরিষ্কার করে দিয়েছেন। খাবার থেকে শুরু করে অনুশীলনে উপস্থিতি, চিকিৎসা থেকে পুনর্বাসন—দলের দৈনন্দিন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেছেন তিনি। এখন সেই কঠোরতার সঙ্গে রিয়ালের তারকা খেলোয়াড়েরা কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

কারণ তারকায় ঠাসা রিয়ালের মতো একটি দলে শুধু কৌশল বা মাঠের অনুশীলন দিয়েই সাফল্য নিশ্চিত করা যায় না। বড় তারকাদের ব্যক্তিত্ব, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং কোচের কর্তৃত্ব—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। মরিনিওর সামনে তাই নতুন মৌসুমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে এই ভারসাম্য ধরে রাখা।

এই মুহূর্তে অবশ্য রিয়ালের ড্রেসিংরুমে তাঁর কঠোর নিয়মের বিরুদ্ধে বড় কোনো অসন্তোষের খবর নেই। বরং খেলোয়াড়েরা নতুন নিয়ম মেনে নিচ্ছেন এবং দলের পরিবেশও ইতিবাচক বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মৌসুম যত এগোবে, ম্যাচের চাপ ও প্রত্যাশা যত বাড়বে, তখন এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত মরিনিওর দ্বিতীয় মেয়াদের বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

একজনও পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার দ্বিগুণেরও …
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
কলেজ-মাদ্রাসায় সাড়ে ১৩ লাখ আসন শূন্য থাকবে
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
কোন বোর্ডে পাসের হার কত, দেখুন এখানে
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে বিদেশি কেন্দ্রে পাসের হার ৮৮.০৬ শতাংশ
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা, পিছিয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
দাখিলে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ, ফল দেখুন এখানে
  • ১০ আগস্ট ২০২৬