মরিনিও ও গার্দিওলা © সংগৃহীত
পেপ গার্দিওলা যখন এক দশকের সফল অধ্যায় শেষে ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতিতে, তখনই তাকে যেন খোঁচা দিলেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হোসে মরিনিও। গার্দিওলার নাম সরাসরি না নিয়েই এক বছরের বিরতিকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন পর্তুগিজ এই কোচ। বলেছেন, ফুটবল থেকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেন না, ‘আমি মারা গেলে বিশ্রাম নেব।’
হোসে মরিনিও ও পেপ গার্দিওলার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এভাবেই যোগ হলো নতুন একটি অধ্যায়। মাঠে তাদের দ্বৈরথ বহুবার ফুটবলবিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার মাঠের বাইরে মরিনিওর একটি মন্তব্যকে গার্দিওলার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।
গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিতে ১০ বছরের সফল অধ্যায় শেষ করে চলতি মৌসুমে ফুটবল থেকে সাময়িক বিরতিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, মরিনিওর ক্যারিয়ার নিয়ে তৈরি একটি মিনিসিরিজ ডকুমেন্টারি আগামী ১১ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সেই তথ্যচিত্রেই ফুটবল থেকে বিশ্রাম নেওয়া কোচদের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মরিনিও।
মরিনিও বলেন, ‘কিছু মানুষের এক বছরের ছুটি প্রয়োজন হয়, যেটা আমি ঘৃণা করি। আমি এই শব্দটাকে ঘৃণা করি। আমার কাছে এক বছরের ছুটি মানে দুর্বলতা। আমাকে এক বছরের ছুটির কথা বলবেন না। আমি কখনো বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করি না। আমি মারা গেলে বিশ্রাম নেব।’
মরিনিও সরাসরি গার্দিওলার নাম উল্লেখ করেননি। তবে গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এক দশকের সফল সময় কাটিয়ে এখন ফুটবল থেকে বিরতিতে থাকায় মরিনিওর মন্তব্যটি যে তাকে ইঙ্গিত করেই করা হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর গার্দিওলা এখনো পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করেননি। বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের সঙ্গে তার নাম জড়ালেও কোথায় আবার কোচিংয়ে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মরিনিও আরও ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি গার্দিওলার মতো দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘আমার পৃথিবী হলো ৫০ হাজার কিংবা ৯০ হাজার দর্শকের সামনে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা। আমি ১ লাখ দর্শকের সামনেও ছিলাম। এটাই আমার পৃথিবী। ফুটবল ছাড়া আমার মনে হয়, আমার কিছু একটা নেই। তবে আমি মনে করি না, এটা কোনো আবেশ। আমি এটাকে আবেশ হিসেবে অনুভব করি না।’
তিনি বলেন, ‘যখন আপনি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে যান, তখন আপনি শুধু সেখানেই চিরকাল থাকতে চান।’
ফুটবল থেকে কবে অবসর নেবেন, সেটিও কল্পনা করতে পারেন না বলে জানান মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমি এমনকি কল্পনাও করতে পারি না যে, কবে আমি ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকা ছেড়ে দেব। আমি বলি আরও ১০ বছর, তবে হয়তো ১০ বছরেরও বেশি।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মরিনিও বলেন, ‘এটা মজার। আমি আরও শিরোপা জিততে চাই। আমি এমন জায়গায় গিয়ে এটা করতে চাই, যেখানে আগে কখনো করিনি। আবার এমন জায়গাতেও করতে চাই, যেখানে এর আগে করেছি।’
মরিনিও ও গার্দিওলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তারা যখন যথাক্রমে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দায়িত্বে ছিলেন। স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের কোচ হিসেবে তাদের মুখোমুখি লড়াই ফুটবলবিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। মাঠের কৌশল থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য—সবকিছুতেই তাদের দ্বৈরথ আলাদা মাত্রা পেয়েছিল।
নেটফ্লিক্সের মিনিসিরিজে মরিনিওর নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি তার কোচিং ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারও থাকবে। তথ্যচিত্রটিতে তার শিরোপায় ভরা ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এমন এক ব্যক্তিত্বকেও তুলে ধরা হবে, যিনি তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত কোচে পরিণত করেছেন।
মরিনিও এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৪০টি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে তিনি ৭৬৬টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন, ২৫১টি ম্যাচ ড্র করেছেন এবং ২২৩টি ম্যাচে হেরেছেন।
আগস্টের মাঝামাঝি নতুন মৌসুম শুরু হলে এই পরিসংখ্যান আরও বদলাবে। তখন আবার রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দাঁড়াবেন মরিনিও এবং নতুন শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার এগিয়ে নেবেন।