ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, বাজছে জরুরি সাইরেন

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩১ AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। একদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে কুয়েত ও বাহরাইনে জরুরি সাইরেন বেজে উঠেছে এবং পরিস্থিতি নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে জরুরি সতর্কতামূলক সাইরেন চালু করা হয়েছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয়টি নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার, নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি দাবি করে, বাহরাইনের রাজধানী মানামার পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।

উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাস্তবতা পরিবর্তন করতে পারবে না।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আগামী দিনগুলোতে নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এমন একটি সময় আসতে পারে যখন আমাদের আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না। তখন আমরা সামরিকভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হব, যা আমরা অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি। যদি সেটি ঘটে, তাহলে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ‘শত্রুতামূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। একই সময় বাহরাইনেও জরুরি সাইরেন বেজে ওঠে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি এখনও চলমান।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শনিবার পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: গোল করে আরও এক ইতিহাস গড়লেন মেসি

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা সেটি করেনি।’ তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আইআরজিসি বলেছে, ‘সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না। তবে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের হামলা অন্য জাহাজগুলোকে নিরাপদ নৌপথের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।’

গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে হামলার পর শনিবার আবার একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়। এর মধ্য দিয়েই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে কয়েক মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় অচল ছিল। সম্প্রতি জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বেড়ে দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে আসে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরের ভেতরে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকে ছিল। এখন সেগুলো ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান চায় জাহাজগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় জলপথ ব্যবহার করুক এবং ভবিষ্যতে সেই পথ ব্যবহারের জন্য ফি আদায়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে উপসাগরের বাইরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, সেটিও তারা লঙ্ঘন করেছে। গত মার্চে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল লেবাননে অভিযান শুরু করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একাধিকবার যুদ্ধবিরতি হয়েছে, সর্বশেষটি হয় গত শুক্রবার, কিন্তু সেগুলোর প্রভাব খুবই সীমিত ছিল।

যে পাঁচ কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হলো ট্রাম্পের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে মাইকিং
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও মেলেনি এমপিও, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ গেল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950