গণমাধ্যমকে আসিফ মাহমুদ

৫ আগস্টের পর ধৈর্য্য ধরেছি, নির্বাচনের পর ছাড় দেওয়া হবে না

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩ PM , আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৯ PM
এনসিপির নির্বাচন পরিচলানা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

এনসিপির নির্বাচন পরিচলানা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া © টিডিসি

এনসিপির নির্বাচন পরিচলানা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে আমরা যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছি, পূববর্তীতে আপনাদের অবস্থানের কারণে আমরা যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পরে কিন্তু সেই ছাড় দেওয়া হবে না। এবারের নির্বাচনে যারা এই বায়াসড অবস্থান গ্রহণ করছেন, যারা আমাদের সাংবাদিক ভাইদের মাঠ পর্যায়ে থেকে সংগৃহীত নিউজের ক্ষেত্রে বায়াসনেস দেখাচ্ছেন, যে কোনটা প্রচার করা যাবে, কোনটা প্রচার করা যাবে না। এক পার্টির বা এক পক্ষের, এক জোটের নিউজ ব্লক করে দিচ্ছেন। আরেক পার্টির বা আরেক জোটের নিউজটা ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করছেন বা ফ্রেমিং করছেন, প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। তাদের প্রতি আমাদের সতর্কতা আমরা জানাতে চাই যে, আমরা কিন্তু আমরা এগুলো নোট রাখছি যে কারা এই ধরনের এজেন্সির পক্ষপাত্বিত করেন। এটার জবাব আপনাদেরকে দিতে হবে। আজ বুধবার (১১ পেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

আরপিও অপব্যাখ্যা করে ১১ দলের নেতাকর্মীদের ফ্রেমিংয়ের চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আরপিও বা নির্বাচনের যে নীতিমালা আছে সেগুলো অপপ্রয়োগ এবং অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ফ্রেমিং করে নির্দিষ্ট ভাবে ১১ দলের নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদেরকে ফ্রেমিং করার এক ধরনের চেষ্টা হচ্ছে। এই মিস ইনফরমেশনগুলো ছড়িয়ে, এই বিষয়গুলোকে বাড়িয়ে নিউজ করার মাধ্যমে এক ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। 

বাংলাদেশের মিডিয়া ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী বায়াসড অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা আগে যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সহযোগিতা করত সে ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন মিস ইনফরমেশন প্রোপাগান্ডা ছাড়তে সহযোগিতা করছে। আমরা ৫ আগস্টের আগে দেখেছি যে মিডিয়া হাউজগুলো এক ধরনের দখল এবং শেখ হাসিনার লেসনী কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল। আমরা দেখেছি যে গোয়েন্দা সংস্থা যে হেডলাইন, যে শিরোনাম দিতো সেটাই দেখানো হতো। কিন্তু পাঁচে আগস্টের পর আমরা দেখেছি যে এই মিডিয়ার উপর সম্পূর্ণ দখল দিয়েও কিন্তু বাঁচা যায়নি। মানুষের জন্য কুদরতের কাছে কোন মেকানিজম কিন্তু কাজ করেনি, মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে এবং তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্য দিয়ে সত্য প্রচার করেছে। সুতরাং এখন মানুষের কাছে যে এক্সপার্টেজ আছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ, তার মধ্য দিয়ে কিন্তু এই ডিজ ইনফরমেশনের জবাব দেয়া হচ্ছে। তবে আমরা বাংলাদেশের মিডিয়ায় যারা দায়িত্বে আছেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন তাদেরকে সতর্ক করে দিতে চাই, আপনারা সঠিক তথ্য উপস্থাপন করুন, আপনারা এই বায়াসনেসটা দেখাবেন না।


তিনি আরও বলেন, সারাদেশে এক ধরনের মিসইনফরমেশন ওয়ার্ল্ড দেখতে পাচ্ছি সোশ্যাল মিডিয়া মিডিয়ার মাধ্যমে। যাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, ইলেকশন কমিশন থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দেখা যায়নি। মিডিয়ার মধ্যেও এক ধরনের একপাক্ষিক হয়ে, এগ্রেসিভ মোডে থাকার প্রবণতা আমরা দেখতে পাচ্ছি।  বিভিন্ন আসনে আমাদের যারা প্রার্থী আছেন তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, তাদের পোলিং এজেন্টদেরকে ভয় প্রদর্শন, কেন্দ্রে আসার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া, কেন্দ্রে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। আমরা আশা করব স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকবেন এবং আগামীকাল শেষ পর্যন্ত বজায় রাখবেন। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় টাকা উদ্ধারের নামে, অভিযানের নামে অনেকের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। মাত্র ২০ হাজার টাকা বহন করার কারণে আমাদের একজন নেতাকে ধরে হেনস্তা করা হয়েছে। আমার বাসায় তো ল্যাপটপ আছে এখন ল্যাপটপ ল্যাপটপ বাসায় রাখাটাও কি অপরাধ? এগুলোকে সেখানে স্থানীয় প্রশাসন এবং বায়াসড লোকাল মিডিয়া যারা দায়িত্বশীল আছেন তাদের মাধ্যমে এক ধরনের নাটক মঞ্চায়ন করা হচ্ছে। এই আরপিও কিংবা নির্বাচনের যে নীতিমালা আছে সেগুলো অপপ্রয়োগ এবং অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ফ্রেমিং করে নির্দিষ্ট ভাবেই ১১ দলের নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদেরকে ফ্রেমিং করার এক ধরনের চেষ্টা হচ্ছে। এই মিস ইনফরমেশনগুলো ছড়িয়ে, এই বিষয়গুলোকে বাড়িয়ে নিউজ করার মাধ্যমে এক ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। 

দেশাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আগামীকাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন। সুতরাং অবশ্যই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। শুধুমাত্র নিজের ভোটার দিলে হবে না নিশ্চিত করতে হবে আপনার পরিবারের বাকি সদস্য আপনার প্রতিবেশীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোটাররা ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করাটা দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আপনারা সে দায়িত্ব পালন করবেন।

১১ দলীয় জোটকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে সুপ্রশাসন, সার্বভৌমত্ব এবং সংস্কার প্রতিষ্ঠার লক্ষে এবং নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে যে ১১ দলীয় জোট সেই জোটকে আপনারা জয়ী করবেন। আমাদের শাপলা কলির যে আসনগুলোতে প্রার্থী আছে তাদেরকে ভোট দিবেন। আমরা আপনাদেরকে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, আমাদের শাপলা কলির প্রার্থীরা যদি আপনাদের সমর্থন নিয়ে সংসদে যেতে পারে তাহলে আপনাদের জন্য আগামী পাঁচটি বছর কাজ করে যাবে।

নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কাছে নির্বাচন আমানত উল্ল্যেখ করে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। বিশেষ করে নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ ও সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা হয়েছে। এ হামলাগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার বার্তা দেয়। আমরা চাইনা, এই দেশে কোন সহিংসতার রাজনীতি থাকুক। 

তিনি বলেন, নির্বাচনে হারজিত থাকবেই। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে। এর জন্য নির্বানের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাদের উপর হামলা করছে। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ও দলটির ‍প্রধান ডা. শফিকুর রহমানের ১৩ নির্বাচনী বুথে ভাঙচুর করা হয়েছে। নির্বাচনের একদিন আগে প্রতিপক্ষের এসব সহিংসতা ভোটারদের মধ্যে ভীতির তৈরী করা হচ্ছে। 

নারায়ণগঞ্জে-৩ আসনে জামায়াত আগেই ভোট দেওয়ার দাবি অসত্য, সহকা…
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জে ৪ ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রার্থী খাগড়াছড়িতে, ভোট চট্টগ্রামে—আলোচনায় জিরুনা ত্রিপুরা
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের আগের রাতেই রেজাল্ট শিটে ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট…
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদপুরে ভোটের আগে টাকা বিলির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক, …
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাতেই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি
  • ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!