নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’: তারেক রহমান

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৮ PM , আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ PM
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান © সংগৃহীত

একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় বক্তব্যকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখে বাংলাদেশে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই নির্বাচনে বরিশাল বিভাগসহ সারা দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটার ভোট প্রদান করবেন। তিনি বলেন, এই মঞ্চের সামনে জুলাই আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার শহীদদের পরিবারের সদস্যরা বসে আছেন। তাদের স্বজনরা জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। বিগত ১৬ বছর ধরে জনগণের কাছ থেকে এই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে নিশিরাতের ভোট, ডামি ও তথাকথিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই নিশিরাতের নির্বাচনের মালিকরা জনগণের প্রতিরোধের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তারেক রহমানের ভাষায়, এখন বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ এবং দেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই।

বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে। তবে ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচার পতনের পরও পুরনো অপমানজনক রাজনৈতিক ভাষা ও আচরণ বন্ধ হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে নারী ও পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করে আসছে। কৃষি, কলকারখানা ও গার্মেন্ট শিল্পে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গার্মেন্ট শিল্পের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের পেছনে দেশের নারী শ্রমিকদের অবদান রয়েছে। অথচ সম্প্রতি ওই গুপ্ত সংগঠনের নেতা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশে একটি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, যে দল বা নেতার নিজের দেশের মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি কিংবা আত্মসম্মান আশা করা যায় না। তিনি ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী নারী ও ব্যবসায়ী। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা.)-এর নেতৃত্বে যুদ্ধের সরঞ্জাম সরবরাহ ও আহতদের সেবার কাজ হয়েছিল। ফলে নারীদের পেছনে রেখে বা ঘরে বন্দি করে রেখে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে গণবিজ্ঞপ্তি

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশের নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেছিলেন। এখন দেশ গড়তে হলে নারী-পুরুষ সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরের খেটে খাওয়া নারী, কর্মজীবী নারী ও গৃহিণীদের ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, ওই গুপ্ত সংগঠনের আরেক নেতা কুমিল্লায় এক সমাবেশে বলেছেন—১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে হবে, এরপর পাঁচ বছর জনগণ তাদের পা ধরবে। এই বক্তব্য থেকে তাদের মানসিকতা স্পষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এমন লোকেরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্য কতটা দুর্বিষহ হবে, তা সহজেই অনুমেয়।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৭১ বা ৮৬ সালে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলো সবসময় তাদের সঙ্গেই ছিল। ফলে দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারে না।

বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করেন। এরপর অনেক উন্নয়ন হলেও এখনও বহু কাজ বাকি রয়েছে। বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ কার্যক্রম জোরদার এবং ভয়াবহ নদীভাঙন রোধের কথা তিনি উল্লেখ করেন। নদীভাঙনে কবরস্থান, মসজিদ ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে পল্লী বিদ্যুৎ চালু করেছিলেন। তবে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট এবং স্কুলে শিক্ষকের অভাবের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে জমির পরিমাণ অনুযায়ী বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি জানান, বরিশাল বিভাগে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও মাছ সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ করা হবে, যাতে কৃষক ও মৎস্যচাষীরা ন্যায্যমূল্য পান। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মা, বোন ও শিশুদের জন্য প্রশিক্ষিত হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে ঘরে ঘরেই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস—এই বিশ্বাস থেকেই বিএনপির সব পরিকল্পনা। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমেই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এর জন্য ১২ তারিখ সকাল থেকে ভোটারদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই গুপ্ত সংগঠনের লোকজন ভুয়া সিল, ব্যালট পেপার ছাপানো এবং সাধারণ নারীদের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এসব অনৈতিক কাজের মাধ্যমে তারা ভোট প্রভাবিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শেষে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। খাল খনন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজবাড়ীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেসেজ ব্লক করে দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে প্রেমিক নিহত, প্রেমিকা গ্র…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষমতায় গেলে হতদরিদ্রদের মাসে ৫ হাজার টাকা দেবে ইসলামী আন্দ…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতে বিপক্ষে না খেলা নিয়ে পিসিবিকে নতুন বার্তা আইসিসির
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রেললাইনে উঠে গেল ট্রাক, অতঃপর...
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে যারা ব্যর্থ, মানুষের নিরাপত…
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬