‘একটি আইএমইআই নম্বরেই ৩ কোটি ৯১ লাখ স্মার্টফোন’

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৬ AM , আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ AM
ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ © সংগৃহীত

এনইআইআর চালুর পরে ‘ক্লোন ফোন’ নিয়ে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেশের নেটওয়ার্কে বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ভুয়া আইএমইআই নম্বর রয়েছে। বিগত ১০ বছরে শুধু একটি আইএমইআই নম্বরেই পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি স্মার্টফোন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, এনইআইআর চালুর পরে 'ক্লোন ফোন' নিয়ে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে! নেটওয়ার্কে বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ভুয়া IMEI নম্বর রয়েছে। যেমন “1111111111111”, “0000000000000”, “9999999999999” এবং এ ধরনের অনুরূপ প্যাটার্ন। তবে এই পর্যায়ে আমরা এসব IMEI ব্লক করছি না।

তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ নাগরিক এসব নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন। এসব ফোনের রেডিয়েশন টেস্ট, Specific Absorption Rate (SAR) Testing সহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা টেস্ট হয়নি কখনও। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যাপকভাবে সচল এসব ফোন ছড়িয়ে রয়েছে। জনজীবনে অসুবিধা তৈরি হয় এমন কোনো পদক্ষেপে সরকার যাবে না। এসব ফোন বন্ধ করা হবে না, গ্রে হিসেবে ট্যাগ করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী আরও বলেন, বিগত ১০ বছরের সর্বমোট সংখ্যা হিসেবে, শুধুমাত্র একটি আইএমইআই নাম্বার 99999999999999 এ পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লক্ষ ২২ হাজার ৫৩৪টি। বিভিন্ন কম্বিনেশন (Document ID+MSISDN+IMEI)। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এ ধরনের IMEI বিভিন্ন IOT ডিভাইসেরও হতে পারে। যদিও অপারেটর মোবাইল ডিভাইস, সিম সংযুক্ত ডিভাইস এবং IOT ডিভাইসের IMEI আলাদা করতে পারে না। যেমন হতে পারে, CCTV বা এ ধরনের ডিভাইস হয়ত একই IMEI নম্বরে আনা হয়েছে। আমরা বৈধভাবে আমদানি করা IOT আমরা আলাদাভাবে ট্যাগের কাজ শুরু করেছি।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ কিছু আইএমইআই নম্বরের একটা তালিকা তৈরি করে দেখা যাচ্ছে যে, সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইসের আইএমইআই নাম্বার হচ্ছে 440015202000; যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসাবে আনা হয়েছে। এভাবে- 35227301738634 নাম্বারে সাড়ে সতেরো লাখ, 35275101952326 নাম্বারে সোয়া পনেরো লাখ। শুধুমাত্র ১ ডিজিটের শূন্য IMEI নাম্বারে আছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি।

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ আরও বলেন, আমরা অনুমান করেছি যে, ক্লোন ও নকল ফোনের ছড়াছড়ি আছে, তবে বুঝতে পারিনি ভয়াবহতা এতটা গভীর। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন মতে, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ ঘটেছিল অবৈধ ফোন, কিংবা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। ২০২৩ সালে ১,৮ লাখ ফোন চুরির রিপোর্ট হয় (রিপোর্ট হয়নি এমন সংখ্যা আছে আরও কয়েক লক্ষ), এসব ফোনের অধিকাংশই উদ্ধার করা যায়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে এভাবে আন-অফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রি করা হয়েছে, এমন প্রতারণা অভাবনীয়, নজিরবিহীন। এই চক্রের লাগাম টানা জরুরি।

 

 

তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ বাম নেতাদের সাক্ষাৎ
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
পে স্কেল নিয়ে এবার তারেক রহমানের সঙ্গে বসছেন সরকারি কর্মচার…
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরানোর প্রক্রিয়া শুরু, ক্ষতি…
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপের নতুন সূচি তৈরি করছে আইসিসি!
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রশাসন বিএনপির দিকে হেলে পড়েছে, এগুলো দেখতে চাই না
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন কে এম …
  • ০৫ জানুয়ারি ২০২৬