জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট নিয়ে ১০১ আলেমের তিন আপত্তি

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৬ PM
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের শীর্ষ নেতারা

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের শীর্ষ নেতারা © ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটকে ইসলামী জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না মন্তব্য করে তিন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ১০১ আলেম। তারা বলেছেন, ঈমান-আকিদা বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনী সমঝোতার নামে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামি জোট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। ঈমান-আকিদা সর্বাগ্রে। ইসলামি জোটের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে সাধারণ মুসলমান ও তাওহিদি জনতাকে বিরত থাকার আহবান জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাহদী হাসানের পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তারা। তাদের ভাষ্য, ‘তথাকথিত’ এই নির্বাচনী সমঝোতাকে ‘ইসলামী জোট’ আখ্যা দিয়ে দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

আলেমরা বলেন, যারা ইসমতে আম্বিয়া (নবীদের নিষ্পাপ হওয়া) স্বীকার করে না এবং সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানে না, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়া মূলতঃ ইসলামি চিন্তা-চেতনার সুস্পষ্ট খেলাফ। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঐক্য কখনোই ইসলামের ঐক্য হতে পারে না। অতএব, তাদের সঙ্গে ঐক্য করা মোটেও সমীচীন নয়।

বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, সম্প্রতি ‘জামায়াতের নেতৃত্বে সমমনা ইসলামী জোট’ নামে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে- মর্মে আমরা অবগত হয়েছি। উম্মাহর দ্বীনি স্বার্থ সংরক্ষণ ও আকিদাগত স্বচ্ছতা বজায় রাখার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা নিম্নোক্ত বক্তব্য পেশ করছি।

প্রথমত, কোনো রাজনৈতিক জোটের নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ বা ‘ইসলামী’ শব্দ যুক্ত হলেই তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ইসলামি রাজনৈতিক জোট হয়ে যায় না। ইসলামী রাজনৈতিক জোটের মৌলিক পরিচয় হলো- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, কোরআন ও সুন্নাহ এবং সালফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ এবং দ্বীনবিরোধী সব ধরনের আপস থেকে পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখা।

দ্বিতীয়ত, দেওবন্দী আকিদা ও মানহাজে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার পরিপন্থী চিন্তা-চেতনা, মতাদর্শ ও দর্শন লালনকারী কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য গঠন করতে পারে না। এ ধরনের ঐক্য আকিদাগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয় এবং দ্বীনের মৌলিক অবস্থানকে দুর্বল করে।

তৃতীয়ত, ইসলামী রাজনীতি কখনোই কেবল ক্ষমতা অর্জনের কৌশল হতে পারে না। বরং তা হতে হবে দ্বীন রক্ষা, শরিয়তের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, বাতিল চিন্তাধারার মোকাবেলা এবং উম্মাহর ঈমান ও আকিদা সংরক্ষণের একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম। আকিদাগত প্রশ্নে আপস করে গঠিত কোনো জোটকে ইসলামি রাজনীতির প্রতিনিধিত্বকারী বলা যায় না।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার চলে যাওয়ার ফলে তৈরি ইমোশন বিএনপির জয়ে জোরালো ভূমিকা রাখবে

আলেমরা বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চান, উক্ত ‘সমমনা ইসলামী জোট’কে আমরা ইসলামী রাজনৈতিক জোট হিসেবে স্বীকৃতি দিই না। পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী আলেম-উলামা, দ্বীনি সংগঠনসমূহ এবং সচেতন মুসলিম জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিদাতা আলেমরা হলেন- আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী (মহাপরিচালক, বাবুনগর মাদরাসা, চট্টগ্রাম), আল্লামা খলিল আহমাদ কুরাইশী (মহাপরিচালক, হাটহাজারী মাদ্রাসা), আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, শায়েখ জিয়াউদ্দিন (আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর, সিলেট), অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুনা, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, আল্লামা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব নারায়ণগঞ্জ, আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, আল্লামা শেখ আহমদ (শায়খুল হাদিস, হাটহাজারী মাদ্রাসা), মুফতি জসিম উদ্দিন (হাটহাজারী), মুফতি আব্দুল মালেক (খতিব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ), মুফতি কেফায়েত উল্লাহ (হাটহাজারী), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আবু তাহের নদবী (মহাপরিচালক, পটিয়া মাদ্রাসা), মাওলানা মুফতি মুবারকুল্লাহ (মুহতামিম, জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী (উত্তরা, ঢাকা), শায়খুল হাদিস আবুল হাসান আলাউদ্দীন (বারিধারা), মাওলানা আব্দুল হক (ময়মনসিংহ), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (মুহতামিম, আরজাবাদ মাদ্রাসা, মিরপুর, ঢাকা), মাওলানা ইউনুছ আহমদ (রংপুর) প্রমুখ।

বিপিএল চলাকালেই আরেক তারকাকে দলে ভেড়াল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বদলি নিয়ে মাউশির চিঠি পায়নি মন্ত্রণালয়
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্বামীর হাত ফসকে গৃহবধূর মর্মান্তিক …
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের স্ত্রী আফরোজার বহুতল ভবনসহ জমি জব্দের…
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ সালে নগদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন রেকর্ড
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
তাইওয়ান হতে পারে আপনার পছন্দের গন্তব্য
  • ০১ জানুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!