ভারতীয় কূটনীতিক এসেও দেখা করেছেন জামায়াতের সঙ্গে, রয়টার্সকে ডা. শফিক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৩ PM , আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৯ PM
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান © সংগৃহীত

চলতি বছরের শুরুতে ভারতীয় কূটনীতিকরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে গোপনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের তথ্য প্রকাশ না করতে দলটিকে অনুরোধ করেছিলেন কূটনীতিকরা। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ দিতে যাচ্ছে ইসলামী দল’ এমন শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারে গেলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তিবোধ করবেন না বলেও জানিয়েছেন জামায়াত আমির।

ভারত প্রসঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা ঢাকায় থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ও হিন্দু-প্রধান দেশ ভারত শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়তা করেছিল।

নতুন সরকার গঠনে সম্ভাব্য দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে একজন ভারতীয় কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির। জানিয়েছেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে ইচ্ছুক কিনা এমন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সবার সঙ্গে খোলামেলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

তবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানে এই বক্তব্য সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার আগ্রহ আমাদের নেই। বরং আমরা সব দেশকে সম্মান করি এবং দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।

রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘অস্বস্তি’তে জামায়াত
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তিবোধ করবে না’। সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি নিজেও চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগে তিনি প্রস্তুত। তবে বুধবার টেলিফোনে আলাপে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, তিনি বিষয়টি আর জটিল করতে চান না।

নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যের সরকারে আগ্রহী জামায়াত
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা ইসলামপন্থী দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ফলের পথে রয়েছে। বুধবার দলটির প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর জামায়াত জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করবে এবং এ বিষয়ে একাধিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র দেখতে চাই। যদি দলগুলো একত্রিত হয়, তাহলে আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত শরিয়াহ আইনের অধীনে ইসলামী শাসনব্যবস্থার পক্ষে কথা বলে, তবে তারা ‘রক্ষণশীল গোষ্ঠী’র বাইরেও সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেকোনো ঐক্য সরকারের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান হতে হবে একটি যৌথ এজেন্ডা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দলের নেতা, যারা সবচেয়ে বেশি আসন পাবে। যদি জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন কি না— সে সিদ্ধান্ত দল নেবে।

বিভিন্ন মতামত জরিপের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, প্রায় ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পর ঘনিষ্ঠ দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে জামায়াতে ইসলামী। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের মুসলিম প্রধান এই দেশে মূলধারার রাজনীতিতে তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট সরকারের ‘জুনিয়র অংশীদার’ হিসেবে ক্ষমতায় ছিল।

যুব নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০২৪ সালের আগস্টে দলটির পুনরুত্থান ঘটে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে নিষিদ্ধ। হাসিনা ছিলেন জামায়াতের কঠোর সমালোচক। তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৩ সালে একটি আদালত জামায়াতের গঠনতন্ত্র দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী বলে রায় দেওয়ার পর দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে দলটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

‘আরে আচরণবিধি রাখেন মিয়া’—ছাত্রদলের পোলিং এজেন্ট
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
৪ দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব বাণিজ্যে পড়বে না:…
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
এইচএসসির ফরম পূরণের তারিখ ফের পরিবর্তন
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রামে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিজিবির শীতবস্ত্র …
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতে বিনাবিচারে ৫ বছর জেলে: ফের নামঞ্জুর দুই ছাত্রনেতার জা…
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬