আবুল মুনসুর © টিডিসি ফটো
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে এমপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আবুল মুনসুর (৭১) নামের এক ব্যক্তি। তার পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। ভিক্ষে করে জমানো টাকা দিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলে তিনি জানান।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরাফাত সিদ্দিকীর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
আবুল মুনসুর উপজেলার বইলর ইউনিয়নের বড়পুকুরপাড় গ্রামের মঠবাড়ী এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে। অল্প বয়সেই দিনমজুরের কাজে নামেন তিনি। বিয়ের পর অন্যের রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে রোজগারের পথ বেছে নেন। এর ১০-১২ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। তার চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দুই ছেলে কর্মজীবী। তারপরও ১৪ বছর ধরে ভিক্ষা করেই চলছে তার সংসার। কিন্তু সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা জোটেনি তার কপালে। এই ক্ষোভ থেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগে তার মনে।
স্বপ্ন পূরণে ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। ওই নির্বাচনে মাত্র ৩৭৭ ভোট পেয়ে ফেল করেন। কিন্তু তাতে তিনি থেমে যাননি। গত বছরের ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আবুল মুনসুর।
বড়পুকুরপাড় গ্রামের এলাকাবাসী জানান, ‘এর আগেও নির্বাচন করে জয়ী হতে পারেননি আবুল মুনসুর। আশানুরূপ ভোটও পাননি। তবুও তিনি ক্ষান্ত না হয়ে এমপি হওয়ার আশায় এবারও প্রার্থী হয়েছেন।’ আবুল মুনসুর সৎ মানুষ। তিনি গরিব। গরিব মানুষের কল্যাণে নিশ্চয়ই অনেক কাজ করবেন।’
স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আবুল মুনসুর ফকির বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে আসছে। তাই ভিক্ষা করে সংসার চালাই। ভিক্ষে করে জমানো টাকা দিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র কিনেছেন। জনগনের টাকা জনগনের কল্যাণে ব্যয় করে যদি জননেতা হই তবে জনগনের জন্য জীবন উজাড় করে দিব।
তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিশাল থেকে অতীতে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গরিবদের খোঁজখবর রাখেননি। যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে গরিবদের পাশে থেকে তাদের কাজ করে দেবো। উপজেলার উন্নয়ন করবো।’
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘মনসুর আহমেদ নামের একজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে তার পেশার জায়গায় সামাজিক কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’