জাহের আলভী © সংগৃহীত
অভিনেতা জাহের আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে ইকলি সম্বোধন করে দেওয়া আবেগঘন সেই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সহানুভূতির বদলে তীব্র সমালোচনার মুখেই পড়েন এই অভিনেতা।
ফেসবুকে আলভীর দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইকলি, তোকে একটা প্রশ্ন করি? কোন একদিন তোর কাছে এসে উত্তরটা শুনে নিব! আচ্ছা, আজকে তোর জায়গায় যদি আমি চলে যেতাম, তখনো কি সমগ্র পৃথিবী তোর বিরুদ্ধে চলে যেত! তোকে টেনে হিচড়ে নীচে নামানোর চেষ্টা করত? তখনো কি সবাই আমাদের রিযিককে নিয়ে মায়া কান্না করত? এতই যদি রিযিকের জন্য ওদের মায়া কাজ করত, তাহলে ওরাও কি পারত এভাবে ওর ভবিষ্যতের কথা না ভেবে তোকে নোংরাভাবে এক্সপোজ করতে? নাকি ভাবত, ছেলেটা বড় হয়ে এসব দেখলে মেন্টালি আনস্ট্যাবল হয়ে যাবে। তখনো কি আমার বন্ধুরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিথ্যে বলে সাধারণ মানুষের মাঝে তোকে খারাপের চেয়ে খারাপ বানাত?’
এরপর তিনি আরো লেখেন, ‘খুব শিগগিরই তোর সাথে কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় বসে, গল্প করতে করতে শুনে নিব তোর কাছ থেকে। শুনব কেমন লাগছিলো তোর, আমার আগে চলে এসে এই মিথ্যে জগতের লীলা খেলা! তৃপ্তি পেয়েছিলি খুব? রাগ করব, অভিমান করব, আবার তুই সরি বলবি, আমি জড়িয়ে ধরে ইটস ওকে বলব। সন্ধ্যা হয়ে আসবে, আবার দুইজন হারিয়ে যাব।’
ইকরাকে ‘ইকলি’ নামে ডাকতেন আলভী। সেই নাম উল্লেখ করেই পোস্টটি লিখেছেন তিনি। তবে প্রকাশের পরই মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে ‘আবেগের আড়ালে দায় এড়ানোর চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই পোস্ট কতটা গ্রহণযোগ্য।
সমালোচনার ঝড় বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘর বন্ধ করে দেন আলভী। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। স্ক্রিনশট আকারে পোস্টটি বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অনেকে ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে সামনে এনে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে আগেই নানা আলোচনা চলছিল। ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।