ইউজিসির মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কার্যক্রম শুধু তদারকির পর্যায়ে সীমিত না রেখে স্ব-উদ্যোগে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ইউজিসিকে পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষতা ও চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রবর্তনের পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় ইউজিসির অর্জন ও পরিকল্পনা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে দিতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বুধবার (৪ মার্চ) ইউজিসি ভবনে ইউজিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ পরামর্শ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। এতে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য দেন। অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ইউজিসির প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, হিট ও আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মহিবুল আহসান সভা সঞ্চালনা করেন।
ইউজিসিকে দেশের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার সাফল্য ও ব্যর্থতা ইউজিসির ওপর নির্ভর করে। দেশে উচ্চশিক্ষাখাত ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারকি করা ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ইউজিসিকে নির্দেশনা দেন। তিনি ২০২৪ সালের পরে ইউজিসির অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করেন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত কলেজ বিষয়ে একটি সাময়িক সমাধান হয়েছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে অংশীজনের সাথে দ্রুত আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী যা একটি বড় সমস্যা। দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্ততঃ একটি মানসম্পন্ন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়াতে দরকার ২৮৫ কোটি টাকা
অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে দেশ উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন। উচ্চশিক্ষা খাতে পাকিস্তানের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষা খাতে তারা প্রশংসনীয় অগ্রগতি লাভ করেছে। সেখানে অবাক হওয়ার মতো গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে পাকিস্তানে এটি সম্ভব হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশও অনুরূপ অবস্থানে যেতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা ও বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান।
সভায় ইউজিসির পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন দ্রুত অনুমোদন, ইউজিসির চাকরি প্রবিধানমালা সংশোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সমাধান এবং সার্ক ফেলোশিপ পুনরায় চালু করার দাবি জানানো হয়।