প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম আয়োজক কমিটি
অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তা © টিডিসি সম্পাদিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আয়োজন হতে যাওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ হিসেবে স্লোগান দেওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বিতর্ক ওঠায় তাদের আয়োজক কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, আগের কমিটির বিষয়টি ড্রাফট ছিল। সেখানে বিতর্কিত কয়েকজনের নাম চলে এসেছিল। তবে আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর আওতাভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এর আওতায় জেলা, উপজেলা/থানা ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য “Startup, Science Project and Innovation ldea Showcasing” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলে স্লোগান দেওয়া কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪ আগস্ট মাউশির গেটে মিছিল করেছিলেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা। মিছিল শেষে মাউশির গেটে অবস্থান নিয়ে ‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের ওই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গঠিত কমিটি খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলা পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল।
সূত্রর তথ্য বলছে, মিছিলকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা হলেন- মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীন ।
এদের মধ্যে মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে খাবার, আতিথিয়তা ও আপ্যায়ন উপকমিটি, প্রতিযোগীদের সাথে যোগাযোগ ও মহড়া আয়োজন উপকমিটি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা উপকমিটিতে রাখা হয়েছিল।
পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে সারা দেশ থেকে আগত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিজয়ী প্রতিযোগীদের তালিকা তৈরি ও পুরস্কার বিতরণ উপকমিটি ও প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামকে।
এছাড়া পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমানকে মিডিয়া, প্রচার ও ডিজিটাল সাপোর্ট উপকমিটিতে এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহন কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে আয়োজক কমিটি থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তাদের বাদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ঢাকা কলেজের প্রভাষক ও শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যারা খুনি বলেছিল, তাদের কীভাবে প্রথম কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছিল সেটি খুঁজে বের করা দরকার। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা সেটিও খোঁজ নেওয়া দরকার।’