শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে আসছে বড় পরিবর্তন, ক্ষমতা পাচ্ছে মাউশিও

২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮ AM , আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ AM
বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মাউশির হাতেও থাকছে

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মাউশির হাতেও থাকছে © টিডিসি সম্পাদিত

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এতে বদলির একটি বড় অংশের ক্ষমতা থাকছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) হাতে। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তৈরি করা এ নীতিমালা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বদলি বাণিজ্য ও হয়রানি বন্ধে ২০২৫ সালে অনলাইনে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় অনলাইনে বদলির আবেদন করতে বলা হয় সংশ্লিষ্টদের। অন্য কোনো উপায়ে বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিএনপি সরকারের সময়ে নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষা ক্যাডারে বদলিতে মন্ত্রণালয়ের একক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। তিন স্তরের এ ব্যবস্থায় প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলির ক্ষমতা থাকবে ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে। আর সহযোগী অধ্যাপকদের বদলির ক্ষমতা মাউশির হাতে থাকবে। বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর, অধ্যাপক, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকার পদায়নের ক্ষমতা থাকছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। সরকার জনস্বার্থে যে কোনও সময় যে কোনও শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে যে কোনও পদে, কর্মস্থলে বদলি বাপদায়ন করতে
বদলি আবেদনের পদ্ধতি ও সাধারণ শর্তাবলির মধ্যে থাকবে- 

বদলি বা পদায়নের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে। আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্রাদি দাখিল করতে হবে। নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকগণ চাকরি দুবছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না; অন্যান্য শিক্ষক বা কর্মকর্তারা একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

শিক্ষা ক্যাডারে বদলিতে মন্ত্রণালয়ের একক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। তিন স্তরের এ ব্যবস্থায় প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলির ক্ষমতা থাকবে ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে। আর সহযোগী অধ্যাপকদের বদলির ক্ষমতা মাউশির হাতে থাকবে। বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর, অধ্যাপক, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকার পদায়নের ক্ষমতা থাকছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

কোনও গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্র বিশেষে দুই বছর পূর্ণ হবার পূর্বে আবেদন করা যাবে। যৌক্তিকতা সাপেক্ষে আবেদন বিবেচনার এখতিয়ার সরকারের থাকবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বা নিকটতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি বা পদায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। 

সরকার এ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার এক বছর পূর্বে কোন কর্মকর্তা বা শিক্ষক তার সুবিধামতো স্থানে বদলির জন্য আবেদন করলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উক্ত আবেদন বিবেচনা করা হবে। অসম্পূর্ণ তথ্য সম্বলিত আবেদন দাখিল করলে এবং পিডিএস হালনাগাদ না থাকলে বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

বদলির আবেদন মূল্যায়ণে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত সমস্যা, আবেদনকারী বা তার পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা, নিজ জেলা হতে কর্মস্থলের দূরত্ব ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা করা হবে।

আবেদন নিষ্পত্তি
বদলির জন্য প্রাপ্ত আবেদনসমূহ নীতিমালায় বর্ণিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে বদলি বা পদায়নের আদেশ জারি করবে। উপজেলা বাপ্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজসমূহের শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে।

সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি ও পদায়নের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটিতে থাকবেন, সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাউশির পরিচালক, সহকারী পরিচালক (কলেজ) সদস্য সচিব এবং সদস্য থাকবেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক এবং জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।

অন্য খবর: পে স্কেল দুই বছর পেছানোর সুপারিশ আইএমএফের, আমলে নিতে চায় না সরকার 

এই কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের বদলি বা পদায়নের আদেশ জারি করবে। ঢাকা মহানগরী এবং বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার পদ ছাড়া সারা দেশে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপকদের বদলি আবেদন নিষ্পত্তি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কমিটি। মাউশির মহাপরিচালক কমিটির সভাপতি এবং সদস্য সচিব হবেন উপপরিচালক (কলেজ-১)। সদস্য হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (কলেজ-২) এবং মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ) থাকবেন।

অপর কমিটিতে সভাপতি হবে সিনিয়র সচিব কিংবা সচিব। উপসচিব (কলেজ-১ অথবা ২) থাকবেন সদস্য সচিব। সদস্য হিসেবে থাকবেন কলেজ অনুশাখার অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব। এ কমিটি কিছু সহযোগী অধ্যাপক ছাড়াও অধ্যাপক, অনিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার সব পদ, কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদে বদলি বা পদায়ন সংক্রান্ত আবেদন যাচাই বাছাইপূর্বক বদলি বা পদায়ানের আদেশ জারি করবে। 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সংযুক্তি বা ওএসডি করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করবে। বিভাগীয় মামলা চলমান বা অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে কোনও আবেদনকারীর আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে। অসম্পূর্ণ তথ্য সম্বলিত ও পিডিএস হালনাগাদ না থাকলে আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। বিগত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন অনুযায়ী চাকুরিকাল সন্তোষজনক হতে হবে।

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের প্রেষণাদেশ মঞ্জুরীর ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে। এ নীতিমালা জারির তারিখ হতে ইতোপূর্বে জারিকৃত এ সংক্রান্ত নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ: জাতীয়
যমুনা পেপার মিলসে একাধিক পদে নিয়োগ
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
দাবিতে অনড় খুবির শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষা-ফলাফলে অনিশ্চয়তার মধ…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
ক্যাম্পাস থেকেই শুরু হোক সফল ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনায় কমছে তেল…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬
মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে গড়তে পারেন সফল ক্যারিয়ার, প্রয়োজন যেস…
  • ২৭ জুলাই ২০২৬