বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল © সংগৃহীত
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে রোগীর তুলনায় ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত বেডের সংখ্যা খুবই কম। মাত্র চারটি বেড থাকায় শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ জনের মতো নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় নির্ধারিত শয্যাগুলোতে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত চারটি বেডে রোগী ভর্তি থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। অনেক রোগীর সঙ্গে স্বজনদেরও সেখানে অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
রোগীদের স্বজনরা জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা ও স্যালাইন প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেড সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বেডের পরিবর্তে মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। ফলে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়ার সময়ে মাত্র চারটি বেড দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে শয্যা সংকটের কিছুটা সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। কাজ শেষ হলেই বেডের সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি।’
এ অবস্থায় নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বেড চালুর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করারও দাবি রয়েছে।