পশ্চিমবঙ্গে একযোগে বেতন বাড়ছে ৫৫ হাজার শিক্ষক-কর্মীর, বদলাচ্ছে বদলির নিয়মও

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ AM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার © জি নিউজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। সম্প্রতি স্কুলের প্যারাটিচার ও মিড-ডে মিল কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির পর এবার স্কুল ও কলেজগুলোর চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক এবং কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এর ফলে প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষক ও কর্মী উপকৃত হতে চলেছেন বলে জি নিউজের খবরে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামের স্কুলগুলোয় শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে শিক্ষকদের স্থানান্তরিত বা বদলির নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে শিক্ষা দফতর। রাজ্য বিধানসভায় শিক্ষা বাজেটের জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এ আশ্বাস দিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, রাজ্যের কলেজগুলোতে কর্মরত ‘স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স (স্যাক্ট)’ শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা মাথায় রেখে তাঁদের সম্মানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, যাঁদের স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স ডিগ্রিতে ইউজিসি নির্ধারিত ৫৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর-সহ যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই বেতন বৃদ্ধির আওতায় আনা হবে।

বর্তমানে স্যাক্ট-১ ও স্যাক্ট-২ মিলিয়ে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনের মাস্টার্সে ৫৫ শতাংশের কম নম্বর রয়েছে। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পরবর্তীতে স্পষ্ট করেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কিছুটা কম রয়েছে, তাদের চিন্তার কিছু নেই। সরকার তাদের যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ দেবে।

স্যাক্ট সংগঠনের নেতা গোপাল ঘোষ বলেছেন, রাজ্যের শীর্ষমানের ‘এ’ ও ভালো গ্রেডের কলেজগুলো মূলত এ শিক্ষকদের ভরসাতেই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী শিক্ষকদের চেয়ে স্যাক্টদের সংখ্যা বেশি। এ জন্য শিক্ষাদানের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধির ফাইল ইতিমধ্যে অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। এতে অর্থ দফতরের প্রাথমিক সম্মতিও মিলেছে।

শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ৩০ হাজার এবং মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ৬ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষাদানে নিযুক্ত ব্যক্তি। এ ছাড়া ৩ হাজার ২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু, ২১ জন স্পেশাল এডুকেটর, ২ হাজার ১৭৪ জন সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মী, ৬৬২ জন উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও ২৭ জন মুখ্য সম্প্রসারকের বেতন বাড়তে চলেছে। ২০০২ সাল থেকে নামমাত্র বেতনে নিযুক্ত এ শিক্ষকদের ২০১৮ সালের পর আর বেতন বাড়েনি। সরকার পরিবর্তনের ফলে তাঁদের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মধ্যেই কড়া বার্তা মোদির

বেতন বৃদ্ধির খবরের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি নতুন ও কঠোর নীতির কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। যে কোনও স্কুলের অনুমোদিত পদের অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষক যদি কর্মরত না থাকেন, তবে সেই স্কুলের কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, গ্রামের স্কুলগুলো থেকে শিক্ষকেরা বদলি নিয়ে চলে যাওয়ায় গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছিল। স্কুলগুলো শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ছিল। গ্রামীণ শিক্ষার মান বজায় রাখতে ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল খোলার পাশাপাশি এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, নতুন সরকারের এ সিদ্ধান্তগুলো একদিকে যেমন হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা দেবে, অন্যদিকে গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে আধুনিক রিসোর্স বুক ও ডিজিটাল কন…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি মেলবন্ধনে বেকারত্ব কমবে: ইউজিসি সদস্য ম…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাকরিতে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধের দাবি
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ডাকসুর আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ, রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলী…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
আবাসিক হোটেলে ঝুলছিল পুলিশ সদস্যের মরদেহ, নেপথ্যে পারিবারিক…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬