‘জীবিত অবস্থায় যদি টাকা না পাই, মরার পরে কী হবে’—অবসর ভাতার আশায় থাকা প্রবীণের আক্ষেপ

২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ PM , আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ PM
মো. শাহজাহান মিয়া

মো. শাহজাহান মিয়া © সংগৃহীত

‘জীবিত অবস্থায়ই যদি টাকা না পেলাম, তবে মৃত্যুর পর সেই টাকা আমার কী কাজে লাগবে?’ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শাহজাহান মিয়া। তার ইনডেক্স নং: (বি৭৫৯৫৩৬)।

জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দপ্তরি হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অবসরে গেলেও সরকারি পাওনা হিসেবে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতার একটি টাকাও এখনো হাতে পাননি তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে বাষট্টি বছর এই প্রবীণ কর্মচারীর। অবসরের পর নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ অনলাইনে আবেদন করেন শাহজাহান মিয়া। কিন্তু আবেদন করার প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। তার দাবি, ফাইলটি এখনো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আটকে রয়েছে।

গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থতা ও অর্থসংকটে ভেঙে পড়েছেন তিনি। সহধর্মিণীকে নিয়ে তার বাসবাস, দুই ছেলে থাকলেও বাবা, মায়ের খোঁজখবর নেন না তারা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে চাকরি করেছি। চাকরির বেতন বাদে সংসারের খরচ সামলিয়ে কোনো ধনসম্পত্তি করতে পারি নাই। সরকার প্রতি মাসেই আমার বেতন থেকে ১০ শতাংশ টাকা কর্তন করেছে। অবসরের পর সেই টাকাটাই তো আমি ফেরত চাইছি। আমার ন্যায্য পাওনা পেতে এত বিলম্ব কেন? এখন জীবিত অবস্থায় টাকাগুলো পাব কি না, জানি না।’

ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী এবং একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মজিবর রহমান জানান, শাহজাহান মিয়া বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সংসারের অভাব এতটাই প্রকট যে নিয়মিত দুবেলা খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারছেন না। বার্ধক্য, অসুস্থতা ও অর্থাভাব মিলিয়ে তিনি চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, শাহজাহান মিয়া নিয়ম অনুযায়ী অবসরে গেছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাসময়ে অনলাইনে সফলভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন। সরকার এখনো ২০২২ সালের অনেক আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারেনি। আর শাহজাহান মিয়া অবসরে গেছেন ২০২৪ সালে। ফলে শাহজাহান মিয়ার মতো অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং অর্থাভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার দ্রুত তাদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার অর্থ ছাড় করলে তারা অনেক উপকৃত হবেন।

গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদনটি অনলাইনের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে করা হয়। তারা একটা আইডি নম্বর দেয় এবং আবেদন নিষ্পত্তি করে।’

স্থানীয়দের মতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে শাহজাহান মিয়ার মতো অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বছরের পর বছর নিজেদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য অবসরকালীন এই অর্থই শেষ বয়সের প্রধান ভরসা। এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় দ্রুত শাহজাহান মিয়ার অবসর ও কল্যাণ ভাতার অর্থ ছাড় দিয়ে তার দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬