ডা. মো. মনিরুজ্জামান © সংগৃহীত
টেস্ট বাণিজ্য, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের আন্দোলনের পর বদলি হওয়া গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে এবার জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এক বছরের ব্যবধানে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার যোগদানও করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেছেন যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম। এতে জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করা হয়েছে। এই আদেশের আগে ডা. মনিরুজ্জামানও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এবিএম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক আদেশে ডা. মনিরুজ্জামানকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ থেকে বদলি করা হয়। প্রথমে তাকে বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হলেও পরবর্তীতে ওএসডি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে টেস্ট বাণিজ্য, দায়িত্বে অবহেলা এবং দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮ দফা দাবিতে তাকে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। তারা মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
একই বছরের ২ জুলাই একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করায় রোগীর সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভ্যর্থনাকর্মী টেস্ট বুঝতে না পারায় রোগী অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় ওই অভ্যর্থনাকর্মীকেও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন ডা. মনিরুজ্জামান। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরালো হয়।
এসব নিয়ে ১৪ জুলাই সকাল ১০টায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন স্থানীয়রা। একই দিন তাকে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন লোক ভাড়া করে এনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধের ডাক দেন। এ সময় অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানালে তাদের ওপর হামলা করা হয়। ওই দিন সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।