বেগম খালেদা জিয়া © সংগৃহীত
দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত জাতি। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে জীবনের প্রদ্বীপ নিভে যাওয়া ‘আপসহীন’ এ নেত্রীকে আজ বুধবার চিরবিদায় জানাবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।
এরই মধ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় এবং বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাছাড়া, আজ সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাক্ষরের জন্য গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই। এছাড়া, ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঘোষিত সব কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং নেতারা শোক জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোও।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকায় আসছেন ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিরা। সেইসঙ্গে গতকাল বিকেল থেকে এ পর্যন্ত চীন, ভারত, পাকিস্তান, জার্মানি, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, কাতার, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রুনাই, ফিলিস্তিন, স্পেন, মরক্কো, ভুটান, ব্রাজিলসহ বহু দেশের কূটনীতিকরা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন।
আর সারাদেশে বিএনপিসহ সব অঙ্গ সংগঠন, অন্যান্য রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সব সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে বয়ে যাচ্ছে শোকের মাতম। অনেকেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবার বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করছেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউসংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা ও দাফন ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুরু তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক
ইতোমধ্যে, সারাদেশের প্রতিটি এলাকা থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সকাল থেকেই ঢাকায় আসছেন। সংশ্লিষ্টরা লাখ লাখ লোকের জনসমাগমের ধারণা করছেন।
এদিকে, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীগণ এই ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। এছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীগণ এই ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে-কুড়িল ফ্লাইওভার-নৌ সদর দপ্তর হয়ে বাসভবন ফিরোজা-গুলশান-২-কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ-এয়ারপোর্ট রোড-মহাখালী ফ্লাইওভার-জাহাঙ্গীর গেট-বিজয় সরণি-উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে বামে মোড় নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হবে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ইন্দিরা রোডস্থ ফার্মগেটে নামার র্যাম্প বন্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে এফডিসি র্যাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হল। সোনারগাঁও মোড় থেকে ফার্মগেট বা বিজয়সরণী (কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ) রোডে সীমিত গাড়ি চলাচল করবে। যথাসম্ভব কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ সড়ক পরিহার করতে হবে।