ফ্যাক্ট চেক © সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর অনলাইন মাধ্যমে বেশ জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে একটি ফটোকার্ড। যেখানে দাবি করা হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দুই দল দেশের সীমান্ত এলাকার আসনগুলোতে একক আধিপত্য বিস্তার করে জয় পেয়েছে। তবে এই দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে দেশীয় ফ্যাক্ট যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা ফ্যাক্ট।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের জেলাগুলোতে জামায়াত ও বিজেপির একতরফা জয় দেখানো ম্যাপটি বিভ্রান্তিকর। সম্প্রতি একটি ম্যাপ বা গ্রাফ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশে জামায়াত ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়লাভ করেছে। আদতে এই হিসাব অবাস্তব ও মিথ্যা।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা দাবিকে ভিত্তিহীন বলে তারা জানিয়েছে, ‘ম্যাপটিতে বাংলাদেশের ১৯টি জেলাকে সীমান্তবর্তী হিসেবে দেখিয়ে সব জেলায় জামায়াত জয়ী হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। ম্যাপে এই জেলাগুলো সবুজ। অথচ পঞ্চগড় ,ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, ও নাটোর জেলায় জামায়াত কোনো আসনেই জয়ী হয়নি। নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ জেলায় বিএনপি বেশিসংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। ম্যাপে উল্লিখিত ১৯টি জেলার মধ্যে কেবল ৪টিতে জামায়াত সব আসনে জয়ী হয়েছে। ম্যাপটিতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে “দাগিয়ে” দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ও আপত্তিকর। তাছাড়া মানচিত্র হিসেবেও ম্যাপটি সঠিক নয়। এতে গাইবান্ধা, নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ মোটেই সীমান্ত জেলা না। এগুলি উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ জেলা।’
প্রচারিত ওই দাবিতে ভারতের ম্যাপেও ভুল আছে উল্লেখ করে ব্যাংলা ফ্যাক্ট জানায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ম্যাপটিতে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন দেখা গেছে। এতে ১১টি জেলার উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির সবগুলো আসনে বিজেপি জয়লাভ করেছে। বাকি ৯টি জেলায় একাধিক আসনে তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য দল রয়েছে।’
উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৬ টি আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্য ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিজেপি। তাতে ১৫ বছর পর রাজ্য ক্ষমতা ছাড়তে হল দেশটির আলোচিত রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।