সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস © সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভিভিআইপি মর্যাদা কমানো হয়েছে—এমন দাবি করে দেশের কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে দ্য ডিসেন্টের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ফ্যাক্টচেকিং তথ্য থেকে এই তথ্য জানা যায়।
ডিসেন্টের তথ্যানুসারে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোতে বলা হয়, বর্তমান সরকার ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ৬ মাস কমিয়েছে এবং এর ফলে আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন না। তবে এ দাবি সঠিক নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত যে প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে এসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপন অক্ষুণ্ণ রেখেই নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও. নং ৪৬-আইন/২০২৬ অক্ষুণ্ণ রাখিয়া…’—অর্থাৎ ড. ইউনূসের জন্য নির্ধারিত এক বছরের ভিভিআইপি মর্যাদা বহাল রেখেই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিকে ‘চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস ছাড়া’ করার চেষ্টা
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র দ্য ডিসেন্টকে নিশ্চিত করেছে, নতুন আদেশের মাধ্যমে ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার সময়সীমা কমানো হয়নি। বরং এই আদেশ ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
একই তথ্য নিশ্চিত করে সুপ্রিম কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, যেহেতু পূর্বের আদেশ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে, তাই বর্তমান প্রজ্ঞাপন ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং এটি পরবর্তী দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর হবে।
এদিকে, যেসব গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর শিরোনাম প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, বাংলাট্রিবিউন, সংবাদ প্রতিদিন, ঢাকা টাইমস, ভোরের কাগজ এবং বাংলা এডিশন।
দ্য ডিসেন্টের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপনের ভাষা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করেই এসব সংবাদমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।