প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক তিনটি ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিন কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এবং দুই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। একদিনের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বশিরপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আশরাফুল ইসলাম হৃদয় (২০)। তিনি সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও বিহারীপাড়া এলাকার রুবেল শেখের ছেলে এবং বরুনাগাঁও আবুল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে তিনি টাইলসের কাজ করতে যান। সন্ধ্যার দিকে দেয়ালে টাইলসের পুডিং দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের আটগ্যালারি এলাকার একটি মহিলা মেস থেকে সুমাইয়া আক্তার ঝিলিক (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী এলাকার মৃত শফিকুল ইসলাম আজাহারের মেয়ে এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন।
সহপাঠীরা সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পড়াশোনার কারণে তিনি শহরের ওই মেসে ভাড়া থাকতেন। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপরদিকে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহাব্বতপুর গ্রাম থেকে পূজা রানী (১৮) নামে আরেক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। তিনি ওই গ্রামের কৃষক নকুল পালের মেয়ে এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিমান থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেন। জানা গেছে, সম্প্রতি মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। পরে তার ফোনটি নিয়ে রাখা হয়। নতুন ফোনের জন্য বাবার কাছে জেদ করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’