নিহত ও তার পরিবার © সংগৃহীত
বাড়িতে ঢুকে ছাত্রনেতাকে অভিনব কায়দায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের পোশাক পরিহিত একজনসহ চার যুবক ছাদ থেকে ফেলে তাকে হত্যা করে। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উলুবেড়িয়ার আমতায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহত ছাত্রনেতার নাম আনিস খান (২৮)। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তিনি। বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীবিরোধী নিয়মে ঠাসা ঢাবির প্রক্টরিয়াল বিধিমালা
জানা গেছে, প্রথমদিকে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আনিস। পরে আইএসএফে যোগ দেন। পরিবারের লোকেরা শুক্রবার রাতে তাকে তিনতলা বাড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের দাবি, জোর করে তিন দুষ্কৃতকারী ঘরে ঢুকে ছাদে উঠে আনিসকে ছাদ থেকে ফেলে খুন করেছে। আনিস এলাকায় অন্যায় বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ বলে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাড়িতে ছিলেন আনিস। ওই সময় চারজন দুষ্কৃতকারী তাঁদের বাড়িতে আসে। তিনজন সাধারণ পোশাকে থাকলেও একজন ছিল পুলিশের পোশাকে এবং তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা বারবার আনিসের নাম করে ডাকছিল। ওই সময় আনিসে বাবা সালাম খান বেরিয়ে আসেন। দরজা খুলতে চাননি তিনি। দুষ্কৃতকারীরা হুমকি দিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করে।
দুষ্কৃতকারীরা জানায়, বাগনান থানায় আনিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করতে এসেছে।
আরও পড়ুন: মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ৬ স্তরের নিরাপত্তা
সালাম খান দরজা খুলে দিলে আনিস কোথায় জানতে চায় তারা। সালাম জানান,আনিস বাড়িতে নেই। তার পরেও সাধারণ পোশাকে থাকা তিনজন সোজা ছাদে উঠে যায়। পুলিশের পোশাক পরা যুবক সালাম খানকে নিচে আটকে রাখে। আনিস ওই সময় বাড়ির ছাদে বসে ছিলেন।
আনিসের বাবা বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর এই তিনজন নেমে আসে এবং পুলিশের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিকে বলে স্যার হয়ে গেছে চলুন। এর পরেই তারা বেরিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধপ করে কিছু একটা পড়ার আওয়াজ শুনি। এর পরে নিচে গিয়ে দেখি ছেলে পড়ে রয়েছে।’
এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী জড়ো হয়। খবর পেয়ে আসে আমতা থানার পুলিশ। পুলিশকে প্রথমে মরদেহ সরাতে দেয়নি স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের ধরার দাবি জানান তারা। পরে ১০টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
আমতা থানার পুলিশ জানান, তাদের পক্ষ থেকে কোনো তল্লাশি চালানো হয়নি। এই গ্রেপ্তারি সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না।
বাগনান থানার পুলিশও জানিয়েছে, তাদের তরফ থেকে কেউ তল্লাশি করতে যায়নি।