গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, এনসিটিবির লোগো ও মাধ্যমিক পাঠ্যবই © টিডিসি সম্পাদিত
আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) জন্য মাঠ পর্যায় থেকে অতিরিক্ত এককোটি সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা আসার পর নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পরে বইয়ের সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির ৩৪টি টিম। দুইদিনব্যাপী দেশের শিক্ষা অফিসগুলোর প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর বইয়ের সংখ্যা কমে আসে প্রায় ৪০ লাখে।
জানা গেছে, চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ছিল ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৯টি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অতিরিক্ত প্রায় এককোটি বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির যৌথ ৩৪ টিম মাঠ পর্যায়ে যায় এবং দুইদিনব্যাপী বইয়ের সঠিক সংখ্যা যাচাই করে। এতে ১১০ উপজেলা থেকেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ বই কমে আসে। এনসিটিবির ৫৮৩ বিতরণ কেন্দ্রের মধ্যে বাকি থাকা কেন্দ্রগুলো আগামী তিন দিনের মধ্যে (মঙ্গলবার-২১ এপ্রিল) অনলাইনে বইয়ের সঠিক সংখ্যার তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে বইয়ের সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ের পর আজ শনিবার (১৮ জুলাই) জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে বইয়ে সঠিক সংখ্যা এনসিটিবিতে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করতে নিষেধ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৭-এর জন্য প্রায় এককোটি অতিরিক্ত বইয়ের সংখ্যার তথ্য আসে। সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ে আমরা জেলা-উপজেলার পর্যায়ে যাই। ১১০ উপজেলা থেকে বইয়ের সংখ্যা জানিয়ে যে চাহিদা দেওয়া হয়েছিল, মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার পর তা প্রায় ৪০ লাখ বই কমে আসে।’— প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন উদ্দিন, এনসিটিবি সচিব
এনসিটিবি ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়িসহ) জন্য মাঠ পর্যায় অর্থ্যাৎ জেলা-থানা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে মাত্রাতিরিক্ত বই ছাপানোর কথা জানানোর পর গত বছরের তুলনায় এবারের সংখ্যায় বড় ধরনের গড়মিল পায় এনসিটিবি।
মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রাপ্ত চাহিদায় বেশকিছু উপজেলাতে পাঠ্যপুস্তকের অতিরিক্ত চাহিদা দেয়া হয়। কিছু কিছু উপজেলায় বিস্ময়করভাবে বেশি চাহিদা দেয়া হয়। দেশের কোনো উপজেলায় ২০২৬ সালের চাহিদার তুলনায় ২০২৭ সালে প্রায় ১৭৯ শতাংশ বেশি চাহিদা দেয়া হয়। আরেক উপজেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি চাহিদা দেয়া হয়। এমন তারতম্যের পর সঠিক তথ্য যাচায় করতে পদক্ষেপ নেয় এনসিটিবি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ৩৪টিমে কাজ করে এনসিটিবি।
সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অসাধু প্রেস মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসাররা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চাহিদার তুলনায় পাঠ্যপুস্তকের অতিরিক্ত প্রদান করা হয়। পরে এসব বই না ছাপিয়ে কিছু প্রেস মালিক টাকা তুলে নেয় অথবা বই ছাপিয়ে সরবরাহ করার পর বইগুলো বাজারে কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রশ্রয়ে বছরের পর বছর এ অনিয়ম হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৭-এর জন্য প্রায় এককোটি অতিরিক্ত বইয়ের সংখ্যার তথ্য আসে। সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ে আমরা জেলা-উপজেলার পর্যায়ে যাই। ১১০ উপজেলা থেকে বইয়ের সংখ্যা জানিয়ে যে চাহিদা দেওয়া হয়েছিল, মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার পর তা প্রায় ৪০ লাখ বই কমে আসে। আশা করছি আরও কমে আসবে। আগামী তিনদিনের মধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে (৫৮৩ বিতরণ কেন্দ্র) শিক্ষার্থীর অনুপাতে বইয়ের সংখ্যা অনলাইনের মাধ্যমে এনসিটিবিতে জমা দিতে হবে। আশা করছি আরও কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন রাষ্ট্রের টাকা অপচয় না হয়, সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সব কেন্দ্র থেকে তথ্য আসার পর বিষয়টি সবাইকে জানানো হবে।’