২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত পাঠ্যবইয়ের চাহিদা, যাচাইয়ে মাঠে এনসিটিবি

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ PM , আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ PM
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লোগো, মাধ্যমিকের পাঠ্যবই

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লোগো, মাধ্যমিকের পাঠ্যবই © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত মানসম্পন্ন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে মাধ্যমিকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মাত্রাতিরিক্ত বই ছাপানোর কথা মাঠ পর্যায় থেকে জানানোর পর নড়েচড়ে বসেছে এনসিটিবি। জেলা-থানা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো বইয়ের সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ৩৪টি টিম কাজ শুরু করেছে। সারাদেশের প্রায় উপজেলায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ করে রিপোর্ট জমা দেবেন কর্মকর্তারা।

এনসিটিবি ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৯ ছিল। আগামী শিক্ষাবর্ষের মাঠ পর্যায় অর্থ্যাৎ জেলা-থানা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে মাত্রাতিরিক্ত বই ছাপানোর কথা জানায় এনসিটিবিকে। সারাদেশ থেকে পাঠানো তথ্যে গত বছরের তুলনায় এবারের সংখ্যায় বড় ধরণের গড়মিল পায় সরকারের এই সংস্থাটি। পরে চলতি মাসের ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির মাধ্যমে সারাদেশের জেলা/উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারদেরও অবহিত করা হয়।

এনসিটিবি থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় জেলা/উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েব এপ্লিকেশনের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা/উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রেরিত চাহিদার সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য দৈবচয়ন ভিত্তিতে একটি উপজেলা এনসিটিবির কর্মকর্তাগণ সরেজমিন পরিদর্শন করে ঐ উপজেলা থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রেরিত চাহিদার সাথে প্রকৃত চাহিদা পর্যালোচনা করেন এবং দেখেন প্রকৃত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পাঠ্যপুস্তক চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : নিম্নমানের বই ছাপিয়ে ১৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দুই ভাইয়ের প্রেস কর্ণফুলী-অগ্রণী

জানা যায়, সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অসাধু প্রেস মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসাররা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, চাহিদার তুলনায় পাঠ্যপুস্তকের অতিরিক্ত প্রদান করা হয়। পরে এসব বই না ছাপিয়ে কিছু প্রেস মালিক টাকা তুলে নেয় অথবা বই ছাপিয়ে সরবরাহ করার পর বইগুলো বাজারে কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রশ্রয়ে বছরের পর বছর এ অনিয়ম হয়ে থাকে।

‘মাঠ পর্যায় থেকে এবার যে পরিমাণ বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে গতবারের তুলনায় এবার একটু বেশি দেওয়া হয়েছে। তাই সঠিক তথ্য যাচাই করতে আমাদের (এনসিটিবির) ৩০টি টিম সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।’— মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) 

এ বছর মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রাপ্ত চাহিদায় দেখা যায়, বেশকিছু উপজেলাতে পাঠ্যপুস্তকের অতিরিক্ত চাহিদা দেয়া হয়েছে। কিছু কিছু উপজেলায় বিস্ময়করভাবে বেশি চাহিদা দেয়া হয়েছে। দেশের কোনো উপজেলায় ২০২৬ সালের চাহিদার তুলনায় ২০২৭ এ প্রায় ১৭৯ শতাংশ বেশি চাহিদা দেয়া হয়। আরেক উপজেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি চাহিদা দেয়া হয়েছে। এমন তারতম্যের পর সঠিক তথ্য যাচায় করতে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রণালকেও অবহিত করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নির্দেশে এনসিটিবির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সারাদেশে সকল জেলায় অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা তদারকিতে মনিটরিং টিম কাজ শুরু করে। 

আরও পড়ুন : মাধ্যমিকের ৪ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে বড় পরিবর্তন, যোগ হচ্ছে এআই-রোবোটিকস-মিডিয়া লিটারেসি

এ ছাড়াও ১৮ এপ্রিল (শনিবার) শিক্ষামন্ত্রী সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে একটি মিটিংও করার কথা রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে আসা রিপোর্টে কোনো ত্রুটি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে এবার যে পরিমাণ বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে গতবারের তুলনায় এবার একটু বেশি দেওয়া হয়েছে। তাই সঠিক তথ্য যাচাই করতে আমাদের (এনসিটিবির) ৩৪টি টিম সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৮ এপ্রিল জুমের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষা অফিসারদের সঙ্গে কথা বলবেন শিক্ষামন্ত্রী। নতুন সরকারের ভাবনা অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকে পরিমার্জন হবে, এটি একটি রুটিন কাজ, প্রতিবছরই বইয়ের পরিমার্জন হয়ে থাকে।’

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যেসব প্রেসের ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে তাদের ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি। তবে নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করব না। সবকিছু নিয়মের মধ্যেই হয়ে থাকবে বলে জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের দুই মাসের অনুদানের চেক ছাড়
  • ২১ মে ২০২৬
ঈদে যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর দিল বাংলাদেশ রেলওয়ে
  • ২১ মে ২০২৬
শিক্ষাখাতে সরকারের প্রতিশ্রুতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই
  • ২১ মে ২০২৬
খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদলের দুই কর্মীকে গুলি
  • ২১ মে ২০২৬
এবার চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক অবরুদ্ধ
  • ২১ মে ২০২৬
রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081