শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই © সংগৃহীত
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ীর বই শতভাগ পৌঁছালেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এখনো শতভাগ বই পায়নি। সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এনসিটিবিতে গত ২৮ ডিসেম্বর পাঠ্যবইয়ের অনলাইন ভার্সনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্যেও জানুয়ারি মাসেই শিক্ষার্থীরা সব বই পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রেস মালিকদের প্রশংসা করেন। তবে তাদের বই ছাপানোর ধীরগতির ফলে এ মাসেও শিক্ষার্থীরা শতভাগ সব বই পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এনসিটিবির বিতরণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৯৬.৩৩ শতাংশ; সপ্তম শ্রেণির ৯০.৮৩ শতাংশ; অষ্টম শ্রেণির ৯১. ৪৬ শতাংশ ও নবম শ্রেণির ৯৮. ৫২ শতাংশ বই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে। ৬ষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির যথাক্রমে ৩.৬৭; ৯. ১৭; ৮.৫৪ ও ১.৪৮ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছায়নি। দেরিতে বই সরবরাহের পেছনে প্রেসগুলোর ধীরগতি নীতিকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা।
এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো ৯টি প্রেসে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ছাপার কাজ চলছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রেস তাদের বইয়ের ছাপার কাজ শেষের দিকে। তবে ২/৩টি প্রেস এনসিটিবির দেওয়া ২০ বা ২১ জানুয়ারির মধ্যে ছাপার কাজ ও জমা দিতে পারবে না। কারণ এখনো তাদের বেশি সংখ্যক বই ছাপা শুরুই করতে পারেনি।
এদিকে যে প্রেসগুলো সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার কাজ শেষ করতে পারবে না তাদের থেকে কাগজ এনে অন্য প্রেসে দিতে পারে। না হলে ফেব্রুয়ারি মাসেও এ দুই শ্রেণির বই দেওয়া সম্ভব নয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বলেন, ‘১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই দেওয়ার কথা থাকলেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আশা করছি চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে শিক্ষার্থীরা সব বই পেতে পারে। চেষ্টা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত সব বই পেয়ে যায়।’
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এরই মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই পায়। মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এরমধ্যে মাদ্রাসার ইবতেদায়ীর বই ইতোমধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বই এখনো পুরোপুরি পায়নি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২টি; এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪০টি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩৮ লাখ ১২ হাজার ১৫২টি পাঠ্যবই। অষ্টম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৪ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮টি; এর মধ্যে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫৬টি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হলেও বাকি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২টি পাঠ্যবই। এর বাইরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯টির মধ্যে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৩৬ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। বাকি রয়েছে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৭৩টি। নবম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮টি। এরমধ্যে ৫ কোটি ৬২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৯টি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। বাকি ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪৯টি পাঠ্যবই।