মাদ্রাসায় ১১ গ্রেড, স্কুলে ১০ম
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক © ফাইল ছবি
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একটি অংশ মাদ্রাসায় নিয়োগ পেয়ে বেতন গ্রেড বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যাচে, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্কুলে কর্মরত শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা পেলেও মাদ্রাসায় কর্মরতরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
জানা গেছে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে প্রায় দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক হাজারের বেশি শিক্ষক স্কুল ও মাদ্রাসায় সুপারিশ পেয়ে ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হয়েছেন এবং তারা ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। কেননা আগের এমপিও নীতিমালায় স্কুল-মাদ্রাসা উভয় ক্ষেত্রেই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদটি ১০ম গ্রেডভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে ১৮তম নিবন্ধনধারীদের আরেকটি অংশ সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগ পান। তারা ফেব্রুয়ারির ১ থেকে ৪ তারিখের মধ্যে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদটি ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়। এতে করে একই ব্যাচের স্কুলশিক্ষকরা ১০ম গ্রেড পেলেও মাদ্রাসার শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারির ১ থেকে ৪ তারিখে জমা দেওয়া এমপিও ফাইলগুলো ধাপে ধাপে বাতিল করা হচ্ছে। ফলে তারা ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব পালন করেও বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের দাবি, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে স্কুলের মতো বকেয়া বেতন প্রদানের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতিতে তারা আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আব্দুল করিম নামে ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, ‘একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বেতন গ্রেডে এ ধরনের বৈষম্য সমতার নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের বৈষম্যের কারণে মাদ্রাসা শিক্ষায় যোগদানের আগ্রহ কমে যেতে পারে। অবিলম্বে বেতন গ্রেড বৈষম্য দূর করার দাবি জানান এ শিক্ষক।
মো. মাসুদ নামে আরেক শিক্ষক বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালায় বিদ্যমান গ্রেড সংক্রান্ত অসঙ্গতি দ্রুত দূর করে ১০ম গ্রেড বহাল রেখে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। সেটি না হলে শিক্ষায় বৈষম্য থেকে যাবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এ ধরনের বৈষম্যের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি বেতন গ্রেড নিয়ে বৈষম্য থেকে থাকে তাহলে সেটি দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’