ভারত

জরায়ুতে নয়, গর্ভবতী নারীর লিভারে বেড়ে উঠছিল ভ্রুণ

১৫ আগস্ট ২০২৫, ১২:১৭ PM , আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৪ AM
৩৫ বছর বয়সী নারী সর্বেশ

৩৫ বছর বয়সী নারী সর্বেশ © সংগৃহীত

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার দস্তরা গ্রামে। ৩৫ বছর বয়সী সর্বেশ নামের এক নারীর জরায়ুর পরিবর্তে লিভারে ভ্রূণের বৃদ্ধি পাওয়া শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭০ থেকে ৮০ লাখ গর্ভাবস্থার মধ্যে মাত্র একটি ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের গর্ভধারণকে বলা হয় ‘ইন্ট্রাহেপাটিক অ্যাক্টোপিক প্রেগন্যান্সি’। খবর বিবিসি বাংলার

সর্বেশ এর স্বামী পরমশীর জানান, তিনমাস যাবত তিন মাস যাবত সর্বেশের শারীরিক অবস্থা তাদের পরিবারের কাছে রহস্যের চেয়ে কম কিছু ছিল না। তিনি জানান, ‘আমি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বমি করছিলাম। সব সময় ক্লান্ত লাগত। ভীষণ যন্ত্রণা হতো। আমার কী হয়েছে কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না।’

তিনি জানান, অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করলে চিকিৎসক তাকে আলট্রাসোনোগ্রাফি করানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু তাতেও কিছু জানা যায়নি। তিনি পেটে ইনফেকশনের ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু মাসখানেক ওষুধ খাওয়ার পরেও যখন তার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি দ্বিতীয়বার আলট্রাসোনোগ্রাফি করান। এইবার রিপোর্টে যা প্রকাশ্যে আসে তা এতটাই বিরল যে চিকিৎসকদেরও তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

আলট্রাসোনোগ্রাফি করার পর চিকিৎসক সানিয়া জেহরা  জানান, তার লিভারে একটা ভ্রূণ রয়েছে। এটা সর্বেশ এবং তার স্বামী পরমবীর, দু'জনের জন্যই অবাক করার মতো বিষয় ছিল। নিশ্চিত হওয়ার জন্য, তারা বুলন্দশহর থেকে মিরাট যান এবং সেখানে আরও একবার আল্ট্রাসাউন্ড এবং এমআরআই করান। কিন্তু রিপোর্টে সেই একই তথ্য উঠে আসে।

ইন্ট্রাহেপ্যাটিক অ্যাক্টোপিক প্রেগনেন্সি কী? 
সাধারণত, একজন নারী তখন গর্ভধারণ করেন যখন ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। এই নিষিক্ত ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবের মধ্য দিয়ে জরায়ুর দিকে চলে যায়। তারপর জরায়ুতেই ভ্রূণের বিকাশ হতে থাকে। কিন্তু ইন্ট্রাহেপ্যাটিক অ্যাক্টোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক ডা. মমতা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছানোর বদলে ফ্যালোপিয়ান টিউবে থেকে যায় বা অন্যান্য অঙ্গের পৃষ্ঠে লেগে থাকে।যেমন এই ক্ষেত্রে লিভারে ভ্রূণ দেখা গিয়েছে। 

তিনি জানান, লিভারে রক্ত সরবরাহ ভাল হয়। তাই প্রাথমিক সময়ে ভ্রূণের জন্য এটা 'উর্বর জমি' হিসাবে কাজ করে এবং তার বিকাশ দেখা যায়। কিন্তু কিছু সময় পর মা এবং শিশু দু'জনের জন্যই একটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই অস্ত্রোপচার করা ছাড়া আর অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

আলোচিত সেই বিজ্ঞান শিক্ষক মারা গেছেন
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রথমবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি শু…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির হল ক্যান্টিনে খাবারে মিলল জীবিত পোকা
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে সড়কে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতির পদ স্থগিত
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬