মাদ্রাসা শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক দানবীরের দেওয়া নগদ অর্থ ছাত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার পর তা ফেরত নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি মাদরাসার প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, দানবীর জিয়া উদ্দিন সিআইপি নামে ব্যক্তি মিরসরাইয়ের বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ উপহার হিসেবে বিতরণ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মিরসরাই উপজেলার গোপালপুর উসমানিয়া তালিমুল কুরআন মাদরাসায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে মোট ৪০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের হাতে টাকা তুলে দিয়ে ছবি তোলার পর দান কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা স্থান ত্যাগ করলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেই টাকা সংগ্রহ করে নেয়।
কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, দানকারী ব্যক্তি টাকা দিয়েছেন সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য, মাদরাসার জন্য নয়। কিন্তু পরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেই টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অনেকের নজরে এলে মাদরাসার প্রধানশিক্ষক জানান, ওই টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার কেনা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের উপহার স্বরূপ ১০০০ টাকা করে কিছুলোক দিয়ে গেছেন, উনারা চলে যাওয়ার পর হুজুর আমাদের থেকে টাকাটা নিয়ে নেয়।
অভিভাবক মেহেদি হাসান বলেন, মাদরাসাটির বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রায়ই শুনি, তবে এবার যে কাজটা হুজুর করেছে তা আসলে কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না, এটা এতিম শিক্ষার্থীদের হক, তিনি কেন এটাকায় লোভ করবেন।
অভিভাবক সরওয়ার হোসেন বলেন, একজন ভাই এতিমদের হাতে টাকা দিয়েছে, কিন্তু হুজুর এটা অন্য খাতে কেন খরচ করবেন? সারাবছর তো এতিমদের তেমন খেয়াল কেউ রাখে না, রমজানে তারা দু-এক জায়গা থেকে সহযোগিতা পায়, কিন্তু সেটা থেকে যদি তাদের বঞ্চিত করা হয় সেটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই হুজুর দ্রুত টাকাটা ফেরত দিয়ে দিক।
এ বিষয়ে মাদরাসার শিক্ষক আব্দুর রব জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপহার দেয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত নিয়েছি, তবে প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন এটি তাদের ইফতারের কাজে খরচ করা হবে। আমি এর চেয়ে বেশি বলতে পারছি না।
ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক নুরুল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।