গ্রেফতারকৃত এবি পার্টি নেতা ইউনুস আলী © টিডিসি ফটো
রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে নিহত রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উপজেলা সদস্য সচিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুর মহানগরীর বুড়িরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার ইউনুস আলী (৩২),তারাগঞ্জ উপজেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মামুনপাড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের পুত্র। এনিয়ে ওই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এর আগে গত বছরের ১০ আগস্ট রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, রুপলাল- প্রদীপ লাল হত্যা মামলায় ইউনুস আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, ঘটনার সঙ্গে ইউনুস আলী জড়িত। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে আসা ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে তাঁদের গতি রোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পাওয়া যায়। ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে পিটুনি দেন। একপর্যায়ে তাঁদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।