হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও © সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অভিনয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে ফয়সালের অভিনয়ের দৃশ্য বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সরকারের সংস্থাটির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইউটিউব চ্যানেলে ‘TVC 4 Final’ নামে একটি ভিডিও গত বছরের ২৩ জানুয়ারি প্রথম আপলোড করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর তা আবারও আপলোড করা হয়।
পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজ শনিবার সকাল ১১টার পর সংস্থাটির ইউটিউব চ্যানেলে ‘TVC 3’ এবং ‘TVC 5’ দেখা গেলেও ক্রমানুসারে ‘TVC 4’ ভিডিওটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নেটিজেনরা দাবি করছেন, হাদি হত্যার প্রধান আসামির সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পাওয়ায় তড়িঘড়ি করে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই টিভিসি-র টেন্ডারটি ফয়সাল নিজেই পেয়েছিল এবং তার নিজস্ব কোম্পানির মাধ্যমেই এটি তৈরি করা হয়। এমনকি ভিডিওতে সে নিজেও অভিনয় করেছে।’
৫ আগস্টের পরবর্তী সময়েও আওয়ামী লীগের ‘পুরানো সেটআপের’ লোকজনের মাধ্যমে এমন কাজ বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি তদন্ত দাবি করেন। এছাড়া হাদির সঙ্গে এই ফয়সালকে কারা পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল, তাদেরও জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি।
জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্সসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজের দাবি, জুলাই হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল অস্ত্র মামলায় বিতর্কিত জামিনে বেরিয়ে এই শুটিংয়ে অংশ নিয়ে থাকতে পারেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ফয়সালের পূর্ব-পরিচয় বা প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় ১৭ লাখ টাকা লুটের সময় অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই ফয়সাল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজমকে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
পরে এ বিষয়ে সংস্থায়টির একাধিক কর্মকর্তাকে কল দিলেও তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগের কথা বলে ফোন নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই স্পষ্ট কোন বক্তব্য দেন নি। সবশেষে জনসংযোগ কর্মকর্তার নম্বর দেয় তাকে অনেক বার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর, রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।