যে কারণে প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ সিং, জানালেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা

২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০১ PM
অরিজিৎ সিং

অরিজিৎ সিং © সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও বহু সুপারহিট গানের শিল্পী অরিজিৎ সিং গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে যখন প্লেব্যাক গানকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন, তখন তার অসংখ্য ভক্ত বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়।

তবে অরিজিৎ সিং এটিও লিখেছেন যে সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে এবং তিনি নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে কাজ করে যাবেন।

কিন্তু যে প্লেব্যাক গান তাকে শুধু দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে তা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত মাত্র ৪০ বছর বয়সে কেন নিলেন অরিজিৎ সিং?

বিবিসি এ বিষয়ে জানতে অরিজিৎ সিংয়ের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ বোঝার চেষ্টা করেছে।

অরিজিৎ সিং অনুরাগ বসুর 'বারফি', 'জগ্গা জাসুস', 'লুডো', ' মেট্রো ইন দিনো'সহ একাধিক চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন এবং এসব ছবির বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

অনুরাগ বসু বিবিসিকে বলেন, 'সারা বিশ্বের মানুষ হয়তো এই সিদ্ধান্তে অবাক হতে পারে, কিন্তু তার সিদ্ধান্তে আমি মোটেই অবাক নই। আমি বহুদিন ধরেই জানি, অরিজিৎ কতটা প্রতিভাবান এবং গান ছাড়াও জীবনে সে আরও অনেক কিছু করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'আমি জানি, অরিজিৎ সিং চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। এমনকি 'বারফি' সিনেমা বানানোর সময়ও অরিজিৎ আমাকে অনুরোধ করেছিল, সে আমার সহকারী হিসেবে কাজ করতে চায়। সে একটি স্কুল খুলতে চায় এবং শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। তার আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমাদের সামনে তার একেবারে ভিন্ন দিক তুলে ধরবে।'

'অরিজিৎ চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে চান'

বিবিসি নিউজ নির্ভরযোগ্য সূত্রে জেনেছে, অরিজিৎ সিং একজন পরিচালক হিসেবে তার প্রথম হিন্দি ছবির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। বর্তমানে শান্তিনিকেতনে ছবিটির শুটিং চলছে।

এই ছবির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন অরিজিৎ সিং এবং তার স্ত্রী কোয়েল সিং। অনুরাগ বসু বলেন, "চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পর্কে অরিজিতের গভীর ধারণা রয়েছে।"

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অরিজিৎ সিং কিছুদিন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের সহকারী হিসেবে কাজ করে সংগীতের নানা খুঁটিনাটি শিখেছেন।

প্রীতমের সঙ্গীত পরিচালনায় 'বারফি', 'ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি', 'জগ্গা জাসুস', 'তামাশা', 'এ দিল হ্যায় মুশকিল' এবং 'ব্রহ্মাস্ত্র'-এর মতো ছবিতে তিনি গান গেয়েছেন, যা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এই জুটিকে অত্যন্ত সফল বলেই ধরা হয়।

প্রীতম ছাড়াও অরিজিৎ সিং শঙ্কর-এহসান-লয়, বিশাল-শেখর, মিঠুন, মন্টি শর্মার মতো সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

মুম্বাইয়ে থাকেন না অরিজিৎ

বলিউডে নিজের গানের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও অরিজিৎ সিং মুম্বাইয়ে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদেই বেশিরভাগ সময় কাটান। সেখানে স্ত্রী কোয়েল এবং তাদের দুই ছেলের সঙ্গে তিনি থাকেন।

মুর্শিদাবাদ থেকেই তিনি তার গানের কাজ, কয়েক বছর আগে গড়া সঙ্গীত সংস্থা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থার দায়িত্ব সামলান।

নিজের জন্মভূমি মুর্শিদাবাদে তিনি একটি রেকর্ডিং স্টুডিও স্থাপন করেছেন। কিছুদিন ধরে সেখান থেকে নিজের গান রেকর্ডিং ও কম্পোজিং করছেন তিনি।

সম্প্রতি সেলিম মার্চেন্টের সঙ্গীত পরিচালক জুটি সেলিম-সুলেমান ওই স্টুডিওতে গিয়ে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে একটি গান রেকর্ড করেন।

সুলেমান বলেন, "চলচ্চিত্র নির্মাণ অরিজিতের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন, যেটার ওপর সে এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চায়। সে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ, আর আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।"

সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র দিয়ে অরিজিৎ সিং গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তিনি তার সংগীতগুরু রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারীর জীবন নিয়ে একটি বাংলা ছবি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছিলেন।

অরিজিৎ সিংয়ের পারিবারিক বন্ধু ও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'এই মুহূর্তে অরিজিৎ একটি হিন্দি ও একটি বাংলা ছবি নিয়ে ব্যস্ত এবং দুটি ছবির শুটিংই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় চলছে।'

অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অরিজিৎ যতটা আবেগী কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতজ্ঞ, ততটাই উদার মনের মানুষ। স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্যে তিনি সবসময়ই এগিয়ে যান।

রিয়েলিটি শো 'ফেম গুরুকুল' দিয়ে যাত্রা শুরু

২০০৫ সালে গানের রিয়েলিটি শো 'ফেম গুরুকুল'-এ অংশ নেন অরিজিৎ সিং। তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ১৮ বছর। এই অনুষ্ঠানের বিচারক ছিলেন কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার, সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর মহাদেবন ও গায়ক কে কে।

অরিজিৎ যখন প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে যান, তখন বিচারক জাভেদ আখতার তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, 'এতে তোমার ক্ষতি কমই হলো, ক্ষতিটা বেশি হলো এই শো-এর।'

২০১১ সালে ইমরান হাশমি অভিনীত এবং মোহিত সুরি পরিচালিত ছবি 'মার্ডার টু'-এর গান 'ফির মোহাব্বত'-এর মাধ্যমে বলিউডে তাঁর প্রথম বড় সুযোগ আসে। সেই গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। এই গানের সাফল্যের পর অরিজিৎ সিংয়ের কাছে একের পর এক প্রস্তাব আসতে থাকে।

২০১৩ সালে 'আশিকি টু' ছবির 'তুম হি হো' গানটি অরিজিতকে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ গায়কদের কাতারে তুলে দেয়।

'ফির মোহাব্বত', 'তুম হি হো', 'বিনতে দিল'-এর মতো সুপারহিট গানের পাশাপাশি 'ফির লে আয়া দিল', 'বদতামিজ দিল', 'কবির', 'ইলাহি', 'এ দিল হ্যায় মুশকিল', 'চান্না মেরেয়া', 'কালঙ্ক', 'কেসারিয়া', 'কাভি জো বাদল বারসে'-এর মতো গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি সাফল্যের নতুন অধ্যায় রচনা করেন।

তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন অসম্ভব জনপ্রিয়। ইনস্টাগ্রাম রিলস, ইউটিউব কিংবা স্পটিফাই—সব প্ল্যাটফর্মেই গত কয়েক বছরে অরিজিৎ সিং সবচেয়ে বেশি শোনা শিল্পীদের একজন হয়ে ওঠেন।

অরিজিৎ সিং দু'বার জাতীয় পুরস্কার এবং আটবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৫ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

২০১৮ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত 'পদ্মাবতী' ছবির 'বিনতে দিল' গানের জন্য তিনি তার প্রথম জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। গানটির সুরকার ছিলেন স্বয়ং সঞ্জয় লীলা বানসালি।

মজার বিষয় হলো, ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'সাওয়ারিয়া' ছবির জন্য বানসালি অরিজিৎকে দিয়ে একটি গান গাওয়ালেও পরে সেই গানটি বাদ দিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে সেই গান গাওয়ান। ২০২২ সালে রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট অভিনীত 'ব্রহ্মাস্ত্র' ছবির 'কেসারিয়া' গানের জন্য দ্বিতীয়বার জাতীয় পুরস্কার পান অরিজিৎ সিং।

রুয়েটে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু কাল, অংশ ন…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিএমইউ প্রোভিসির সাথে জাপানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাধামর ছড়ার স্থায়ী বাঁধের অপেক্ষায় খাগড়াছড়ির ১৮০ পরিবার
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
চালক সংকটে বন্ধ জাবিপ্রবির বাস, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
৪ বিভাগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্ডিপেনড…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
diuimage