নিকটজনের বয়ান

মিমো ও সুদীপ চক্রবর্তী: একটি সম্পর্কের শুরু থেকে শেষ

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ PM , আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ PM
উম্মে হানি, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ও সুদীপ চক্রবর্তী (বাঁ থেকে)

উম্মে হানি, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ও সুদীপ চক্রবর্তী (বাঁ থেকে) © টিডিসি সম্পাদিত

২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী বিভিন্ন থিয়েটার প্রজেক্ট ও ওয়ার্কশপে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। সুদীপ চক্রবর্তী তাঁর নিজস্ব দল ‘থিয়েট্রিক্স বাংলাদেশ’-এ বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতেন। সেই সূত্রেই মিমো তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

মিমোর বক্তব্য অনুযায়ী, কাজ করতে করতে একপর্যায়ে সুদীপ চক্রবর্তী তাঁকে জানান যে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো নেই এবং দাম্পত্যজীবনে তিনি সুখী নন। তখন তার শুধু একটি সন্তান ছিল, পরবর্তী সন্তানটি আরও পরে হয়। ওই সময়ে তিনি বারবার নিজের মানসিক অস্থিরতা ও দাম্পত্য অসন্তোষের কথা শেয়ার করতেন। সেই জায়গা থেকেই মিমো তাঁর প্রতি সহানুভূতি অনুভব করেন এবং একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়। ২০২৩ সাল থেকে তাদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০২৪ সালে ‘স্বর্ণবোয়াল’ নাটকের আংশিক উপস্থাপনার জন্য সুদীপ চক্রবর্তী মিমোসহ দলের আরও দুজন সদস্যকে নিয়ে লন্ডনে যান। সেই সফরে সুদীপের স্ত্রী সন্দেহ করে জানতে চান মিমোর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না। সুদীপ তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এর কিছু মাস পরেই ‘চিকেন শিট থিয়েটার’-এর একটি ওয়ার্কশপে মিমোকে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন সুদীপ এবং তাঁকে বলেন বিষয়টি যেন কাউকে জানানো না হয়। মিমো কেবল তাঁর বাবা-মা এবং দু-একজন ঘনিষ্ঠজনকে জানান যে তিনি দ্বিতীয়বার লন্ডন যাচ্ছেন। সেই সফরে সুদীপ তাঁর স্ত্রীর অজান্তে মিমোকে আলাদা জায়গায় রেখে সময় কাটান। ওয়ার্কশপ শেষে তারা দেশে ফেরেন। তখনও তাঁর স্ত্রী জানতেন না যে মিমো তাঁর সঙ্গে লন্ডনে ছিলেন; তাঁকে অন্যত্র রাখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন আত্মহত্যা করা ঢাবি ছাত্রী মিমো

২০২৫ সালের মার্চে সুদীপ চক্রবর্তী যুক্তরাজ্যে আরেকটি ওয়ার্কশপে যান। এবার তিনি মিমোর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী উম্মে হানিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। যদিও ওই গবেষণাকাজে মিমো, হানি এবং আরও কয়েকজন একসঙ্গে কাজ করেছিলেন, তবে এই সিদ্ধান্ত মিমোকে গভীরভাবে আঘাত করে। তিনি ধারণা করতে থাকেন যে হানির সঙ্গেও সুদীপের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এরপর থেকে মিমো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন। হানি দেশে ফেরার পর মিমোর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

সেই পরিস্থিতিতে হানি বিভাগের জুনিয়র ও নিজের ব্যাচের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে থাকেন যে সুদীপের সঙ্গে মিমোর ‘অবৈধ সম্পর্ক’ রয়েছে। এতে বিভাগজুড়ে মিমোর চারিত্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা তাঁকে আরও বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে। ২০২৫ সাল জুড়ে মিমো গভীর মানসিক সংকটে ছিলেন। সে বছরের শেষ পর্যন্ত তিনি এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছিলেন। একাধিকবার ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ঘটনা ঘটে। তিনি মনোবৈজ্ঞানিক পরামর্শও গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক সুদীপের সঙ্গে আরেক ‘ছাত্রীকে অন্তরঙ্গ’ দেখে ক্ষুব্ধ ছিলেন মিমো

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, এই সময়ে মিমো সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছিলেন। কিন্তু সুদীপ কখনো কাজের সুযোগের টোপ দিয়ে, কখনো আবেগ দিয়ে তাঁকে ধরে রাখতেন। একই সময়ে তিনি হানির সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। সম্প্রতি সুদীপ চক্রবর্তী মিমোকে বিভিন্ন হুমকি দিতেন বলে জানা গেছে। তিনি বলতেন, ‘আমার নাম ছাড়া তুমি থিয়েটারে কোনো কাজ পাবে না’ এবং ‘বাংলাদেশে তুমি কীভাবে থিয়েটার করো, আমি দেখব।’ এ ছাড়া তাঁর ছাত্রত্ব বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, যাঁরা মিমোর সঙ্গে সম্প্রতি কাজ করেছিলেন।

২০২৫ সালে মিমো কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি তাঁদের আবার একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল। মৃত্যুর আগের দিন, অর্থাৎ ২৫ এপ্রিলও মিমো সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি কাজের বৈঠকে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং সুদীপ তাঁকে অপমানজনক কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিকটজনের ভাষ্যমতে, শারীরিক জবরদস্তির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ মানসিক নিপীড়ন, আবেগীয় কারসাজি এবং ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি মিমোকে ক্রমশ কোণঠাসা করে তুলেছিল বলে মনে হয়।

লেখক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং তা  দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের অবস্থান বা সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে না।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের শূন্য পদের তথ্য চাইল মাউশি
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি চাকরির অন্ধ মোহ: মেধার একমুখী স্রোত যে সংকট তৈরি করছে
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালে চাকরি, আবেদন শেষ ৫ মে
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
‘তোমরা কেমন আছো, পড়ালেখা করছো তো?
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
হুয়াওয়ে আইসিটি গ্লোবাল ফাইনালে প্রথম রুয়েট শিক্ষক সৃজন
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৬১ শতাংশ টিকাদান শেষ, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬