ডিনস অ্যাওয়ার্ড হাতে মুনিরা মাহজাবিন মিমো © টিডিসি সম্পাদিত
স্নাতকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিলেন আত্মহত্যা করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো। গত বছরের ১৪ অক্টোবর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।
ওইদিনই নিজের এই কৃতিত্বপূর্ণ অর্জনের বিষয়টি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মিমো।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আজ আমি ডিন’স মেরিট লিস্ট অব অনার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। আমার মন আনন্দে ভরে গেছে। মনে হচ্ছে এমন এক স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখছি, যা একসময় আমার কাছে অধরা মনে হতো। পথটা সহজ ছিল না—অনেক সময় নিজের ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছিলাম, কিন্তু আজকের এই অর্জন প্রমাণ করে ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম আর ভালোবাসা একসাথে থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
আমার এই সাফল্যের পেছনে যারা নিরন্তর সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন—আমার প্রিয় বাবা-মা, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, বন্ধুরা, পরিবার, সিনিয়র ও জুনিয়র—সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বিশেষ কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি, যারা আমার কঠিন সময়গুলোতেও পাশে থেকেছেন এবং আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখিয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল— ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া...।’
এ ঘটনায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও মিমোর এক সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ঢাবি শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, আর ওই ছাত্রীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে অভিমানে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মিমো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা, বিভাগটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, মিমোর মৃত্যুর একদিন আগে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাবির কলাভবনের ৬০১ নম্বর কক্ষে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও আরেক ছাত্রীকে ‘অন্তরঙ্গ’ মুহূর্তে দেখেন মিমো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয় বলে জানা গেছে।