বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল
শেবাচিম সন্ধানী ও ছাত্রদলের লোগো © সংগৃহীত
ছাত্রদলের সভাপতি গ্রুপকে মেইন্টেইন না করায় বেশ কয়েকজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সন্ধানী’ ক্লাবের বিভিন্ন উপ-কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, রীতি-নীতি ভেঙে ‘রাতের আঁধারে’ গঠিত এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন নির্দিষ্ট গ্রুপের অনুসারীরা।
সন্ধানী দেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত একটি বিখ্যাত স্বেচ্ছাসেবী দাতব্য স্বাস্থ্য সংস্থা। এটি স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং মরণোত্তর চক্ষুদান আন্দোলনের মূল পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাতে বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি অনুমোদন দেয় সন্ধানী শেবাচিম ইউনিট। উপ-কমিটিগুলো হলো—ছাত্র কল্যাণ, রোগী কল্যাণ, দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা, শিক্ষা গবেষণা ও পরিসংখ্যান, ড্রাগ ব্যাংক, ডোনার ক্লাব, ভ্যাক্সিনেশন এবং থ্যালাসেমিয়া প্রজেক্ট।
সন্ধানী ক্লাবের একাংশের অভিযোগ, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপ-কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি না থাকলেও দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করার কথা, সেটি করা হয়নি। এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রিন্সের অনুসারী না হওয়ায় নির্বাহী কমিটিতে থাকা বেশ কয়েকজনকে উপ-কমিটিতে রাখা হয়নি। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাহী কমিটির সম্পাদক সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং যুগ্ম সম্পাদকরা যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ার কথা।
তথ্য বলছে, সংগঠনটির শিক্ষা ও গবেষণা উপ-কমিটিতে নির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শ্রাবণ এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক জাবের বিন ফয়সালকে রাখা হয়নি। এ ছাড়া বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন যুগ্ম-সম্পাদক।
জানতে চাইলে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শ্রাবণ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রথমত—কমিটির কার্যকারী সদস্য যারা আছে, তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটা কার্যকরী মিটিংয়ে এই উপ-কমিটি পাস করানো হয়। কিন্তু এবার উপকমিটি পাস করানোর ক্ষেত্রে কোনো কার্যকরী মিটিং ডাকা হয়নি। এ ছাড়া উপ-কমিটিতে সাধারণত সদস্য হিসেবে স্থান পায় এক বছর হওয়ার পরে। অথচ এবার ৫৬ ব্যাচকে মাইনাস করে বেশিরভাগ ৫৭ ব্যাচ থেকে সদস্য দেওয়া হয়েছে, যারা মাত্র ৩-৪ মাস হয়েছে ক্যাম্পাসে আসা।
আরও পড়ুন: ‘অরাজনৈতিক’ মেডিসিন ক্লাব ছাত্রদল নেতাদের দখলে, পদ পেলেন সেই ‘অ্যাক্টিং প্রভোস্ট’ও
তিনি বলেন, বর্তমান কার্যকরী কমিটি যখন করা হয়, তখনও বিভিন্নভাবে জোড়াতালি দিয়ে কমিটি বানানো হয়েছে। তারপরও যেভাবেই হোক, আমরা ওইভাবে মেনে নিয়েছি। আমাকে একটা পদ দেওয়া হয়েছে, আমার কাজের আওতাধীন যত আছে, আমি সবগুলাতে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু রীতি অনুযায়ী, জানিনা তারা আমাকে কেন উপ-কমিটিতে আহ্বায়ক পদ দেয়নি।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, যারা কোনোদিন ক্লাবেও আসে নাই, ক্লাবের রুলসও জানে না, কোনো প্রিকও করে নাই, সময় দেয় নাই, তারা উপকমিটি এবং কার্যকরী কমিটি দুইটাতেই স্থান পাইছে।
শ্রাবণ বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেখলাম উনারা লিখছে যে কমিটিতে যারা স্থান পায় নাই, পরবর্তীতে তাদেরকে সম্প্রসারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে আমি বলেছি যে অন্তত আমার জুনিয়র যারা আছে—৫৫, ৫৬ ব্যাচ, যারা বিগত সময়ে ভালো করেছে, তাদের যেন রাখা হয়। অনুরোধ করি। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রুপে আমার দেওয়া ম্যাসেজও ডিলিট করে দেওয়া হয়।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রিন্সের অনুসরণ না করায় উপ-কমিটিতে অনেকে জায়গা পাননি বলেও অভিযোগ করেন শ্রাবণ।
শেবাচিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ক্লাবের সাবেক সক্রিয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফাহিদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি নিজেও সন্ধানী করেছি। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ রাতের আঁধারে এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সভার মাধ্যমে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, যারা কোনোদিন সন্ধানীতে আসেনি, এমন লোকজনও পদ পেয়েছে। মূলত একটি অংশ থেকেই বেশিরভাগকে এই উপ-কমিটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। অথচ কার্যকরী পরিষদের সম্পাদকরাও বাদ পড়েছে। একজন সন্ধানীয়ান হিসেবে স্বচ্ছতার মাধ্যমে এসব কমিটি হওয়া উচিত বলে মনে করি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্ধানী শেবাচিম ইউনিটের সভাপতি আহমেদ শাকিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিযোগগুলো আসলে ভুল। উপকমিটি বলতে ইউনিটের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য জুনিয়রদের কিছু কার্যক্রম ভাগ করে দেওয়া হয়। মূল কার্যকরী কমিটির অধীনে আমরা উপকমিটি করি জুনিয়রদের নিয়ে। সে ক্ষেত্রে যেসব জুনিয়র সন্ধানীতে রেগুলার আসে, কাজগুলো রেগুলার করে, তাদেরকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ধানী পুরোটা নিউট্রাল। আমাদের সংবিধানে আছে, কোনো রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের পোস্টেড কোনো মেম্বার এখানে থাকতে পারবে না। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী আমরা এইখানে স্বচ্ছতা রাখি।
শাকিল আরও বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুটি পক্ষ আছে। এক পক্ষ তাদের কিছু জুনিয়র এখানে যুক্ত করতে চাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের কথা হলো আমরা সন্ধানীতে রাজনীতি ঢুকতে দেব না। আমি ওইভাবেই কমিটিটা করেছি, যারা কাজ করেছে তাদের রেখেছি। আর একটি মিটিংয়ে কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে, ফরমালিটি মেইন্টেন করে, উপদেষ্টা পরিষদের স্বাক্ষর নিয়ে এটা করা হইছে। বাইরের মানুষজন যেটা বলতেছে বা ওরা যেটা প্রচার করতেছে, এটা পুরোটাই মিথ্যা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান প্রিন্স দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সন্ধানী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এই কমিটির সাথে আমাদের ছাত্রদল বা আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনোই কানেকশন নাই। এখানে যারা কমিটির সদস্য, আপনি যদি কাগজগুলা দেখেন, এখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ৫৬ আর ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ওখানে রাজনীতি করে ঐরকম একটা ছেলেও আশা করি আপনি পাবেন না।
অনুসারীরা কমিটিতে জায়গা পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সমস্ত সংগঠনেই এরকম কিছু ছেলে আছে যে কোনো না কোনো একটা সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। এখন একটা ছেলে ছাত্রদল করে আবার একটা সামাজিক সংগঠনের সাথে আগে থেকেই জড়িত—সেক্ষেত্রে কোনো ছেলে বা কেউ যদি কমিটিতে এসে থাকে, সেটা তো ভাই আমাদের কোনো দায় না।
উল্লেখ্য, এর আগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত অরাজনৈতিক সংগঠন ‘মেডিসিন ক্লাব’ও দখলের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সেখানে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পেয়েছেন ছাত্রদল নেতারা। কমিটিতে পদ পেয়েছেন নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে হল প্রভোস্ট পরিচয় দিয়ে আলোচনায় আসা শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকও।