শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ

নবীন ছাত্রদের সিট দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতারা, দপ্তর সম্পাদক বললেন— ‘আমি তোমাদের এক্টিং প্রভোস্ট’

০২ মে ২০২৬, ০৭:৫২ PM
ছাত্রদলের লোগো/শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নোমান ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন (বাঁ থেকে)

ছাত্রদলের লোগো/শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নোমান ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন (বাঁ থেকে) © টিডিসি সম্পাদিত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) সদ্য ভর্তি হওয়া ২০২৫-২৬ সেশনের ছাত্রদের সিট বণ্টনের ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক নবীন শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ভারপ্রাপ্ত হল প্রভোস্ট’ পরিচয়ও দিয়েছেন। এসব কথাবার্তার স্ক্রিনশট ফাঁস হলে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নোমান ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন ওরফে উৎস আহমেদ শোভন)।

আগামীকাল রবিবার (২ মে) ‍ওরিয়েন্টেশনের পর নবীন শিক্ষার্থীদের হল ও কক্ষ বণ্টনের কথা রয়েছে। কলেজের ২ নম্বর হোস্টেল ভেঙে ফেলায় একটি স্টাফ কোয়ার্টারে ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ক্যাম্পাস সূত্র বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে ওঠাতেন। সে সময়ে ছাত্রলীগের অনুগতদের বাইরে কারো ওঠার সুযোগ ছিল না। তবে গত ২ সেশনে মেধার ভিত্তিতে গ্রুপ করে লটারির মাধ্যমে রুম বণ্টন করা হত।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘হল সমস্যা’ নামে একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করেছেন ছাত্রদল নেতারা। এই গ্রুপে তারা দাবি করেছেন, হোস্টেলের ‘রুম ডিস্ট্রিবিউশনসহ সব কিছু’ তাদের দায়িত্বে রয়েছে। এমনকি কক্ষ বণ্টনের বিষয়টি ‘আরও সিনিয়র লেভেল’ হয়ে শিক্ষকদের কাছে পৌঁছাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গ্রুপ চ্যাটে।

আরও পড়ুন: হোস্টেলে যাওয়া-আসার পথে জুনিয়রদের ইভটিজিংয়ের শিকার সিনিয়র ছাত্রীরা

ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন তার ‘উৎস আহমেদ শোভন’ নামের আইডি থেকে গ্রুপে দেওয়া ম্যাসেজে বলেছেন, তোমাদের প্রোগ্রাম নিয়ে আমি একটু ব্যস্ত। কাল ওরিয়েন্টেশন থেকে শুরু করে তোমাদের রুম ডিস্ট্রিবিউশন সবই আমাদের দায়িত্বে, তোমাদের হলে উঠার শুরুর দিকে কিছু সমস্যা তোমরা ফেস করবেই, যেহেতু নতুন, বরিশালের বাইরের অনেকেই আছো। কাল ওরিয়েন্টেশন শেষে তোমাদের রুম দেওয়ার সময় যদি তোমাদের নিজেদের কোনো চয়েস থাকে, মানে নিজেরা বন্ধুরা একসাথে থাকতে চাও, তবে এটা আজই গ্রুপে জানিয়ে দিবা। না হলে র‍্যান্ডোমভাবে রুমমেট পড়বে। যে ৩ জন করে থাকতে চাও, তাদের নাম একত্রে রোলসহ লিখে এই গ্রুপে দিবে। তোমাদের মতামত আরও সিনিয়র লেভেল যাবে, তারপর টিচাররা অবগত হবেন। পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা আমাদের জানাতে পারবে। ক্যাম্পাসে কোনো র‍্যাগিং নেই, এই নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, কেউ তোমাদের কিছু বলতে পারবে না। কাল প্রোগ্রামে দেখা হচ্ছে, ফি আমানিল্লাহ।

এখানে রুম হলো ২৪টা, আর ছাত্রছাত্রী ৮০ জন। তার মানে রুমের কোনো সংকট নাই। অর্থাৎ ছাত্রদল কাউকে রুম পাইয়ে দেবে, কাউকে দেবে না এরকম কোন সমস্যা নাই। এমন না যে আমরা ছাত্রদলের কাউকে রুম দিব। আমাদের কারো সাথে যদি আগে কথা হত যে কোন একটা স্টুডেন্ট ছাত্রদল করে, আমরা তার জন্য একটা সুপারিশ করতাম— সেটা অভিযোগ হতে পারত— মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স, সভাপতি, শেবাচিম ছাত্রদল

আরেকটি ম্যাসেজে তিনি লিখেছেন, এই গ্রুপে নোমান ভূঁইয়াকে ভাইকে এড করা হয়েছে, যিনি তোমাদের হলের সব দায়িত্বে আছেন (রুম+ ডাইনিং), তাকেও তোমরা সব বিষয় অবগত করতে পারবে।

আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, নোমান ভূঁইয়া লিখেছেন, আমি মুহাম্মদ নোমান। ৫৩তম ব্যাচ। আমি তোমাদের হলের এক্টিং প্রোভোস্ট। আমি তোমাদের হলের এলটমেন্ট এবং ডাইনিংয়ের দায়িত্বে আছি। ভাইয়ারা তোমরা আমাকে ইনবক্সে একে একে জানাও। কে কে একসাথে থাকতে চাও।

এসব স্ক্রিনশট ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ৫৩ ব্যাচের আরেক ছাত্র এহতেশামুল হক নাবিল। তিনি লিখেছেন, ক্যাম্পাসে বেশ কয়েক বছর ধরে একটা সুন্দর কালচার তৈরি হয়েছে—জুনিয়ররা অরিয়েন্টেশনের দিন লটারি বা রোল অনুযায়ী সিট পেয়ে যায়। আগে দেখা যেত ছাত্রলীগ রুম ডিস্ট্রিবিউশন করত তাদের অনুগত করতে জুনিয়রদের। ইদানীং দেখছি সেই ভূত যেন কলেজের ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের উপর চেপেছে।

আরও পড়ুন: কাউকে কান ধরিয়ে, কারও হাত উঁচিয়ে— ২৬ শিক্ষার্থীকে রাতভর র‌্যাগ দিলেন ছাত্রদল নেতারা

তিনি লিখেছেন, আমরা আশা করেছিলাম, অরিয়েন্টেশনের প্রথম দিনই স্টুডেন্টরা সবাই স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সিট পাবে। কলেজ অথোরিটি মেরিট বা লটারির ভিত্তিতে সিট দিবে— এটাই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আজ, অরিয়েন্টেশনের আগের দিনই, ক্যাম্পাসের ছাত্রদল নেতারা ৫৭ ব্যাচের ছেলেদের নিয়ে ‘হল সমস্যা’ নামে একটা গ্রুপ খুলেছে। সেখানে তারা এমনভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে যে তারাই সিট বণ্টন করবে এবং ডাইনিংসহ অন্যান্য সব বিষয় পরিচালনা করবে। জুনিয়রদের নিজেদের পছন্দমতো রুমমেট সিলেক্ট করে নাম জমা দিতে বলছে। পাশাপাশি ‘র‍্যাগিং নাই’ এই অভয়ও দিচ্ছে।

এ ছাড়া রাফিউল ইসলাম শোভন বিডিএস-১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী হয়েও নিজেকে এমবিবিএস-৫৪ ব্যাচ হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন নাবিল। তিনি লিখেছেন, ছাত্রদলের নেতারা নিজেদেরকে জুনিয়র ব্যাচের সিট অ্যালটমেন্টের দায়িত্বে দাবি করছে কিভাবে? ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক কীভাবে নিজেকে ‘এক্টিং প্রভোস্ট’ পরিচয় দেয়? তাহলে কি ক্যাম্পাসে আবার ছাত্রলীগের মতো হল দখলের সেই পুরোনো ট্রেডিশন ফিরতে যাচ্ছে? ছাত্রদল কি জুনিয়রদের সিট দেওয়ার নামে আবারও তাদেরকে গিনিপিগ বানিয়ে দখলদারির রেজিম ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক রাফিউল ইসলাম শোভন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অনেকেই আমাদের ইনবক্স করছিল হল ডিসট্রিবিউশনের বিষয়ে। আমরা যেহেতু সিনিয়র, ওরা বলেছিল যে ওদের কিছু ফ্রেন্ড সার্কেল আছে, ওরা একসাথে থাকতে চাচ্ছে। আর কর্তৃপক্ষ র‌্যান্ডমলি রুম দিতে চাচ্ছে। আমরা বলেছিলাম, তোমরা যদি ফ্রেন্ড সার্কেল একসাথে থাকতে চাও, তাহলে আমাদের বলতে পার। আমরা সেভাবেই তাদের (কর্তৃপক্ষ) অবগত করব।

তিনি বলেন, তারা নিজ থেকেই আমাদের ম্যাসেজ দিচ্ছিল। আমরা বলেছি, টিচারদের সাথে আলোচনা করব। যেহেতু আমরা এখন সিনিয়র, তারা নক দিয়েছে। এখানে আসলে নেগেটিভ কোন কিছুই দেখছি না। জুনিয়রদেরকে হেল্প করার জন্য করেছি। সিনিয়র হিসেবে জুনিয়রদের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব থাকতেই পারে।

নবীন শিক্ষার্থীদের অ্যালটমেন্টের জন্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া আছে। কেউ হল প্রভোস্ট পরিচয় দিলেই হবে না। আমরা টিচারদের দায়িত্ব দিয়েছি— অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নোমান ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দিয়েছেন বলে জানান। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, বিগত কিছুদিন আগে ২ নং হোস্টেলের প্রভোস্ট স্যার আমাকে ৫৭তম ব্যাচের ডাইনিংয়ের দায়িত্ব দেন, প্রিন্সিপাল স্যার সেটা অনুমোদন করেন। গতকালকে স্যারের সাথে ডাইনিং বিষয়ক কথা বলতে গেলে স্যার তখন দেখি অ্যালটমেন্ট নিয়ে খুবই চিন্তিত। কারণ স্যারের মেয়ে এবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। স্যারের মেয়ের ওরিয়েন্টেশনে যাওয়া লাগবে, এ জন্য স্যার হলের দায়িত্ব নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন।

তিনি লিখেছেন, স্যার আমার সামনেই আমাদের আরও ২ জন শিক্ষক ডা. সৈয়দ ইমরান আশফাক সিসিল এবং ডা. কাশেদুল ইসলাম নয়ন স্যারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। তখন স্যারদের সাথে কথা বলতে বলতেই স্যারদের কাছে প্রস্তাব করলাম যে স্যার, যেহেতু স্টুডেন্টরা নতুন, তাই ওরা ওদের পরিচিত বন্ধুদের সাথে উঠলে কেমন হয়? এতে ওদের জড়তা ও কাটবে + তাদের বাসা থেকে এত দূরে এসে থাকতেও অতটা খারাপ লাগবে না। তখন স্যার আমাকে বললেন— এই কাজ অনেক সময় সাপেক্ষ এবং কে কার সাথে থাকতে চায় সেটা বের করা সম্ভব না। তখন আমি এই দায়িত্ব নিলাম। আমি প্রতিটা স্টুডেন্টের প্রতি আহবান জানিয়েছিলাম যে কে কার সাথে থাকতে চায়?

ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, (স্টাফ কোয়ার্টােরে) আমাদের টোটাল ২ ভবনে রুম আছে ২৪টি, আর ৫৭ তম ব্যচের ছাত্র সংখ্যা ৮০ জন। অর্থাৎ প্রত্যেক স্টুডেন্ট রুম পাবে। তখন স্যার দের আমি রিকুয়েস্ট করলাম যে, যেহেতু কোয়ার্টারের এরিয়া একটু দূরে এবং ওই জায়গাটা ভালো না, তাই নীচতলায় ছাত্রদের জিনিস চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তখন স্যাররা সিদ্ধান্ত নেন, ২০টি রুমে ৪জন করে অ্যালটমেন্ট দেবেন। তাহলে নীচ তলায় কারো আর থাকা লাগবে না। তখন আমি ৫৭ ব্যাচের জুনিয়র দের কাছে কাছে ওদের পছন্দের বন্ধুদের নাম চাই স্যারদের পক্ষ থেকেই, যাতে তাদেরকে তাদের কম্ফোর্ট অনুযায়ী রুম দেয়া যায়। জাস্ট স্যারদের কাজকে সহজ করার জন্য এবং এই দায়িত্ব আমি স্যারদের থেকেই পাই।

রোল নম্বর অনুযায়ী রুম ডিস্ট্রিবিউশন হবে, এই বাইরে কিছু হবে বলে আমার জানা নেই। আমি মেয়ের ওরিয়েন্টেশন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে— ডা. মো. আমিরুল ইসলাম, প্রভোস্ট, ২ নং হোস্টেল, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ

ফেসবুকে স্ক্রিনশট শেয়ার করা এহতেশামুল হক নাবিলকে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত হল প্রভোস্ট পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে নোমান ভূঁইয়া লিখেছেন, আমি ম্যাসেজে বলেছিলাম, আমি acting provost. নেহায়েত মজা করে বলা একটা কথা নিয়ে কি নোংরামি করল। একজন ছাত্র কিভাবে প্রভোস্ট হয় ভাই? মানে এই সামান্য কারণ এইখানের ডাইনিং + হলের কিছু কাজ সামনে থেকে আমি করছি এবং করতেছি। এমনকি এই হোস্টেলের নিরাপত্তার জন্য ৩-৪ জন আনসার আনার জন্য আমি প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে কমপক্ষে ২০ বার গিয়েছি। একজন ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবেই এই কাজগুলো করছি। একটা নরমাল সেন্সের মানুষও জানে যে প্রোভোস্ট টিচাররা হয়, স্টুডেন্টরা না। বাট আমার শিবির বন্ধু এবং তার চ্যালারা আমাকে নিয়ে ভরদুপুরে নোংরামি করল। অবশ্য এটা ওদের জাতগত স্বভাব।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান প্রিন্স দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটা বিষয়। একজন ছাত্র কোনদিন প্রভোস্ট হয় না, সে নিজে পোস্ট দিয়ে ক্লিয়ার করেছে। এটা কমনসেন্সওয়ালা মানুষও তো বোঝে। তিনি বলেন, এখানে রুম হলো ২৪টা, আর ছাত্রছাত্রী ৮০ জন। তার মানে রুমের কোনো সংকট নাই। অর্থাৎ ছাত্রদল কাউকে রুম পাইয়ে দেবে, কাউকে দেবে না এরকম কোন সমস্যা নাই। এমন না যে আমরা ছাত্রদলের কাউকে রুম দিব। আমাদের কারো সাথে যদি আগে কথা হত যে কোন একটা স্টুডেন্ট ছাত্রদল করে, আমরা তার জন্য একটা সুপারিশ করতাম— সেটা অভিযোগ হতে পারত।

আরও পড়ুন: সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার চড়-থাপ্পড়, চেয়ার ছুড়ে মারধর

তবে ভিন্ন কথা বলছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ২ নং হোস্টেল প্রভোস্ট ডা. মো. আমিরুল ইসলাম। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, রোল নম্বর অনুযায়ী রুম ডিস্ট্রিবিউশন হবে, এই বাইরে কিছু হবে বলে আমার জানা নেই। আমি মেয়ের ওরিয়েন্টেশন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল নেতার নিজেকে ‘এক্টিং হল প্রভোস্ট’ পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকমটা আমি এটা জানি না, আমি এটা শুনিনি।

হলের ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব ছাত্রদল নেতাকে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই নম্বর হোস্টেরের ডাইনিং একজন পরিচালনা করতেন। ওই হোস্টেল ভেঙে ফেলার পর কর্মচারী ভবনে হোস্টেল স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে ডাইনিংয়ের একটা অসুবিধা হবে, এটার জন্য আমরা প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে কথা বলব। তবে একজন ছাত্র পরিচালনা করতে চাইলে সেটা আমরা সুপারিশ করতেই পারি। এটা তো স্টুডেন্টদেরই চালানোর কথা। তবে মূল অথরিটি হলো প্রিন্সিপাল স্যার।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের অ্যালটমেন্টের জন্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া আছে। কেউ হল প্রভোস্ট পরিচয় দিলেই হবে না। আমরা টিচারদের দায়িত্ব দিয়েছি।

ডিসি সম্মেলন শুরু কাল, উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
  • ০২ মে ২০২৬
টিএসসিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন…
  • ০২ মে ২০২৬
৩৬তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ন…
  • ০২ মে ২০২৬
খেলতে খেলতে মায়ের বসানো চায়ের পাতিলে টান, গরম পানিতে ঝলসে স…
  • ০২ মে ২০২৬
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ৬৫, আবেদন শুরু …
  • ০২ মে ২০২৬
শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষ: মামলা প্রত্যাহার চায় চবির নির…
  • ০২ মে ২০২৬