শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল © সংগৃহীত
এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস, ওয়ার্ড ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (৬ জুন) কলেজের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবিটি হলো— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন ডাক্তারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।
এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি অবিলম্বে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এই ছাত্র ধর্মঘট ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।