শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ
আটক দারোয়ান © সংগৃহীত
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) মঈনুল হায়দার ছাত্রাবাসে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর সিলিন্ডার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হলের দারোয়ান এই কাণ্ড ঘটালে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ ‘তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা’ নিলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায় সময় চুরির ঘটনা তো ঘটছেই, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণেও নিরাপত্তা সংকটে রয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ শনিবার (১ আগস্ট) মঈনুল হায়দার ছাত্রাবাসে (৩ নং ছাত্রাবাস) এই চুরির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সিমেন্টও চুরি করেন দারোয়ান অলক। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা যায়, অলক একা সিমেন্ট নিয়ে গেলেও সিলিন্ডার চুরির জন্য তার সহযোগী রিকশাচালককে নিয়ে আসে। চুরি শেষে তা বাজারে বিক্রি করে দিয়ে আসে। এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা তার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। পরে তাকে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, অলক মাদকসেবি। তিনি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন।
শেবাচিম শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক মাস আগে মেডিকেলের জামিলুর রহমান পাপ্পু ছাত্রাবাসে গভীর রাতে রুমে ঢুকে শিক্ষার্থীদের টাকা চুরি করেন আরেক দারোয়ান আল আমিন। পরে শিক্ষার্থীরা হাতেনাতে ধরে তাকে মারধর করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আল আমিনের পরিবারের তিন সহোদর শেবাচিমের বিভিন্ন হলে দারোয়ান হিসেবে আছেন। তার ভাই আল মামুনও চুরির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন শনিবার আটক হওয়া অলক।
এ ছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, এমনকি হলেও বহিরাগতদের উৎপাত অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের পুকুর থেকেও মাছ ধরে নিয়ে যায় বহিরাগতরা। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অবস্থা আরও শোচনীয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী সম্প্রতি রাত ৯টা ২০ মিনিটে ক্যান্টিন থেকে খাবার নিয়ে ফেরার সময় থুথু নিক্ষেপের শিকার হন।
শেবাচিম বিডিএস ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুর ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের মেডিকেলের ইন্টারন্যাশনাল সব পুরুষ শিক্ষার্থী মঈনুল হায়দার হলে অবস্থান করেন। ফলে এরকম ঘটনা আমাদের দেশের জন্যও অপমানজনক। আজকে যে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর সিলিন্ডার চুরি করল দারোয়ান, এ থেকে কী ম্যাসেজ পাবে বিদেশি শিক্ষার্থীরা? সম্প্রতি ক্যাম্পাসের জন্য দশজন আনসার নিয়োগ হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। আমাদের দাবি থাকবে প্রশাসনের কাছে, যেন প্রশাসন মঈনুল হায়দার ছাত্রাবাসে দ্রুত সময়ের মধ্যে আনসার নিয়োগ দেয়।
তিনি বলেন, অন্যান্য হলগুলোতেও আনসার নিয়োগ দেয়ার দাবি আমাদের। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। স্থানীয় কোনো জুয়ারি, মাদকসেবিকে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া চূড়ান্ত পর্যায়ের অসচেতনতা।
দেশের বাইরে অবস্থান করায় সার্বিক বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন এবং ব্যস্ত থাকায় হল প্রভোস্ট ডা. এস এম ওমর ফারুকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সহকারী হল প্রভোস্ট ডা. আব্দুল জব্বার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের উপস্থিতিতে এটা মোটামুটি তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে। আর কিছু প্রশাসনিক বিষয় আছে, যেগুলো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যারা আছে, তাদের সাথে আলাপ করে বাকিটা সমাধান হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লোকবলের সমস্যা আছে। যার কারণে বাধ্য হয়ে এই ধরনের লোক দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হয়। এক্ষেত্রে সবকিছু যাচাই করে দেখার সুযোগ হয় না। সরকার নিয়োগ দিলে সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়।