শের-ই-বাংলা মেডিকেল ডেন্টাল ইউনিট

১০ বিভাগে শিক্ষক ১১ জন, ৫ বর্ষের ক্লাসরুম একটি, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ PM , আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ PM
আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা © সংগৃহীত

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ডেন্টাল ইউনিটের ক্লাসরুম, আবাসন ও শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের তৃতীয় তলার একটি অংশে ইউনিটটির অবস্থান। এখানেই ক্লাস, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে একটি মাত্র কক্ষ। এ ছাড়া মোট শিক্ষক পদের ৭৪ শতাংশ আছে শূন্য।

এ নিয়ে শিক্ষক নিয়োগসহ আবাসন ও একাডেমিক অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতে দুই দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নরা। আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে ক্লাস বর্জন ও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে শিক্ষকদের মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫২টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭৪ শতাংশ শিক্ষকের পদই শূন্য রয়েছে। এই ১৪ জনের মধ্যে আবার ৩ জন অন্য এলাকায় সংযুক্তিতে রয়েছেন। এ হিসেবে ডেন্টালের মোট ১০টি বিভাগের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১১ জন।

এ ছাড়া এ ছাড়া বেসিকসহ সব বিভাগের শিক্ষকরাই হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। এর বাইরে মোট ১৫ জন চিকিৎসকের স্থানে কর্মরত মাত্র ৪ জন, যা মোট পদের মাত্র ২৬ শতাংশ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতি বছর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে মোট ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এর মধ্যে ডেন্টালের বিডিএস কোর্সে ভর্তি হন ৫০ জন শিক্ষার্থী। এ হিসেবে প্রতিবছর ৫টি বর্ষ এবং ইন্টার্নশিপসহ ডেন্টালে মোট ৬০০ শিক্ষার্থী থাকার কথা। যদিও শেষ পর্যন্ত কিছু শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েন।

তবে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য এত বছরেও পর্যাপ্ত একাডেমিক ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়নি। বেসিক বিষয়ের ক্লাসগুলো মূল একাডেমিক ভবনে হলেও ডেন্টালের ক্লাস হয় হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলার একটি মাত্র ক্লাসরুমে। এই একটি কক্ষই ৫টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর ফলে প্রায়ই ক্লাস ওভারল্যাপ হয়ে যায় এবং সময় ভাগাভাগি করে ক্লাস নিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল ইউনিটের জন্য আলাদা একাডেমিক ও আবাসিক ভবন থাকলেও তাদের জন্য কোনো আলাদা হোস্টেল নেই। মেডিকেল কলেজটির ৩ নম্বর হোস্টেলে যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীরা থাকেন, সেখানে গাদাগাদি করে থাকতে হয় বিডিএস শিক্ষার্থীদের।

বিডিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল রাহাত গণমাধ্যমকে বলেন, এ অবস্থায় আমরা কীভাবে মানসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা লাভ করব, সেটিই আমাদের প্রধান প্রশ্ন। এই সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করার লক্ষ্যে আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছি। বরিশাল অঞ্চলে ডেন্টাল চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলো শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিট। এখান থেকেই ভবিষ্যতের দন্তচিকিৎসকরা গড়ে উঠবেন। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। বর্তমানে মাত্র ১১ জন শিক্ষকের পক্ষে ১০টি বিভাগের পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়।

শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে স্বতন্ত্র ভবন থাকলেও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের জন্য এখনো আলাদা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুহাইলা উম্মু রুম্মান বলেন, জনসাধারণকে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিতে হলে আগে আমাদের দক্ষ ও যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে কথা বলতে শেবাচিম ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ডা. এস এম ওমর ফারুক, মেডিকেলটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বাবলু ও শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি।

‘সিলেট অধিবেশনে’ ৮০১ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন
  • ২৭ জুন ২০২৬
পর্তুগালের সঙ্গে যে কারণে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাচ্ছে কলম্বিয়া
  • ২৭ জুন ২০২৬
আরও একবার ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তনের ঘোষণা জাবি উপাচার্যের
  • ২৭ জুন ২০২৬
মার্চেন্ডাইজার নিয়োগ দেবে যমুনা গ্রুপ, আবেদন ১৪ জুলাই পর্যন…
  • ২৭ জুন ২০২৬
যেমন হতে পারে পর্তুগাল-কলম্বিয়ার শুরুর একাদশ
  • ২৭ জুন ২০২৬
সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়া…
  • ২৭ জুন ২০২৬