উত্তর সোনাখুলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত
অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায় এসব নোটিশ দেন।
শোকজ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন-উত্তর সোনাখুলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী হরিহর চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষক জোলমাতুন নুর, সেলিমা বেগম ও সেগুপ্তা মারিয়া রয়েছেন। অপরদিকে উত্তর সোনাখুলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামকেও শোকজ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, উত্তর সোনাখুলী মিলনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় সফটওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ১০৫ জন। কিন্তু পরিদর্শনকালে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র সাতজনকে। বিষয়টিকে অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বিধিবহির্ভূত এবং কর্তব্যকর্মে চরম অবহেলা ও অসদাচরণের শামিল, যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এতে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শ্রী হরিহর চন্দ্র রায় দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এলেও মুভমেন্ট খাতায় বিদ্যালয় ত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কোনো সহকারী শিক্ষককে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দিয়ে যাননি।
অন্যদিকে উত্তর সোনাখুলী আশ্রয়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি বেলা ১১টায় বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং পরবর্তী কর্মদিবসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ এবং অগ্রিম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিখনে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন তদন্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে।