স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের অবস্থান ধর্মঘট © ফাইল ফটো
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশের সরকারি অনুদানভুক্ত ১ হাজার ৫২৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে ১৫২৯ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের কাছে কোয়ারি চেয়েছে অর্থ্যাৎ শিক্ষক সংখ্যা, যোগ্যতাসহ নানা বিষয়। পরে বিভাগ এসব তথ্যও দিয়েছে। বর্তমানে এসব মাদ্রাসার জাতীয়করণের ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জাতীয়করণের ফাইলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনেক আগেই পাঠানো হয়েছে এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে যেসব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে তা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফাইল আসলে বাকি বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট জানানো হবে।
জানা যায়, মাদ্রাসা জাতীয়করণ, নতুন নীতিমালা প্রণয়নসহ ছয় দফা দাবিতে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। টানা দশদিনের আন্দোলনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষকদের ছয় দফা দাবি মেনে নেয়া হয়।
সেসময় বৈঠক শেষে শাহবাগে অবস্থানরত শিক্ষকদের সামনে জাতীয়করণ করাসহ সব দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক। তিনি বলেন, ‘আপনাদের দাবি অনুযায়ী সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। মাদ্রাসার একাডেমিক যে স্বীকৃতি বন্ধ ছিল এতদিন, সেটি জুনের মধ্যে চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মাদ্রাসাও করা হবে।’
সরকারি হিসাবমতে দেশে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫১৯টি। সরকারি অনুদান পাওয়া মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার এবং সহকারী শিক্ষকের বেতন ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫ হাজার ৯৩২টি মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলো সরকারি অনুদান পায় না।