ছাদে দাঁড়িয়ে আন্দোলন দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মিজানুর রহমান

০৩ জুলাই ২০২৫, ০২:২০ PM , আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪০ AM
গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ মিজানুর রহমান

গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ মিজানুর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের আগস্ট মাস। ঢাকার বাইপাইলের রাস্তায় ভেসে ওঠে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী গর্জন। ‘কোটা না মেধা, মেধা!’, ‘আমি কে তুমি, রাজাকার!’—স্লোগানে মুখর পুরো পরিবেশ। সেই মিছিলটি একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি আশুলিয়ার একটি বাসার ছাদ থেকে দৃশ্যপটে হতাশা ও গর্বের চোখে আন্দোলনের চিত্র দেখে যাচ্ছিলেন। তিনি মিজানুর রহমান, পেশায় স্যান্ডেল ব্যবসায়ী ও জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার ইউনিয়নের ভেলামারী গ্রামের সন্তান।

১৯৮৭ সালের ২৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া মিজানুর রহমানের ছোটবেলা কাটে কঠোর পরিশ্রম আর সংসারের বোঝা বয়ে নিয়ে। বাবা ওসমান গনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় ভাই হিসেবে মিজানুর ছিল দায়িত্বশীল ও সৎ। লেখাপড়া করতে পারেননি দীর্ঘক্ষণ, কিন্তু সংসারের দায়ভার নিয়ে ঢাকায় আসেন। বাইপাইল এলাকায় ছোট একটি জুতার দোকান খুলে পরিবারের জীবন চালাতেন। তার মন ও প্রাণ ছিল দুই সন্তান—ছেলে-মেয়ের কষ্টহীন ভবিষ্যতের স্বপ্নে মগ্ন।

ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনেও মিজানুরের আত্মার টান ছিল প্রবল। তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের এই তরুণেরা দেশের ভবিষ্যৎ, যারা মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পেলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই ৫ আগস্ট বিকালে বাইপাইল বাসার সামনেই শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে দোকান বন্ধ করে ছেলেকে নিয়ে ছাদের ওপর বসে ছিলেন তিনি, গর্বে ভরপুর।

আরও পড়ুন: ‘স্বৈরাচার হাসিনা আমার সুখের সংসারটা তছনছ করে দিছে—আমি তার ফাঁসি চাই’

কিন্তু হঠাৎ পুলিশের গুলির স্রোতে রক্তাক্ত হয় মিছিলাকালীন পরিবেশ। মিজানুর ছাদের ওপর থেকে তা দেখছিলেন, যখনই চোখে জল মেশানো এক ভয়ংকর গুলি এসে লাগে তাঁর বুকে। ছেলেটি বাবার চিৎকারে দৌড়ে আসে, কিন্তু তখন মিজানুর চোখ দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং শেষ বাণী উচ্চারিত হয়—‘তাদের অধিকার ছিনিও না।’

অপরিকল্পিত হামলায় গুরুতর আহত মিজানুরকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনটি রক্তের ব্যাগ দেওয়া হলেও তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্ত্রীর ছুটে আসা ও হাসপাতালে চিৎকারের মধ্যে কাঁপছিল পুরো বারান্দা।

আজ মিজানুরের ছেলে বাবার পথেই হাঁটতে চায়। সে বলে, ‘আমার বাবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে মারা গেছে, আমি অন্যায় মেনে নেব না।’ তবে অভাবের ভার এখনও তার কাঁধে চাপ, আর মেয়ে এখনো স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে বসে বলে, ‘বাবা আর স্কুলে যেতে বলবে না।’

আরও পড়ুন: ফোনের ছবিতে বাবাকে খোঁজে ছাত্রদল নেতা আরিফুলের ২ বছরের মেয়ে

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। শুরুতে এই আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু সরকার তা দমন-পীড়নের মাধ্যমে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকার এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমন-পীড়নের মাধ্যমে থামাতে গিয়ে সরকারই আরও প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সরকারের সহিংস হস্তক্ষেপে প্রায় হাজারো নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন হাজার হাজার। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে। পতন ঘটে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দীর্ঘদিন নিপীড়ন নির্যাতন চালানো আওয়ামী লীগ সরকারের। ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

গভীর রাতে ঢাবিতে বিসিএসের গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগ…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
নিরাপত্তা ত্রুটিতে লাখ লাখ সাইবার হামলার চেষ্টা, অনলাইন সেব…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’—ওসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন রুমিন ফ…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সব চেষ্টা ব্যর্থ, না ফেরার দেশে রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপু…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে এনসিপির কার্যালয়, উদ্বোধনে মাহমুদা মি…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি, ১৩৫ ফ্লাইট বাতিলে দুর্ভোগ…
  • ২২ অক্টোবর ২০২৬