ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর © সংগৃহীত
ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালীন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তারা প্রাণ হারান।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই 'প্রি-এম্পটিভ' বা আগাম হামলা পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং সম্ভাব্য বড় কোনো হামলা নস্যাৎ করতেই এই 'অপারেশন লায়ন'স রোর' পরিচালনা করা হয়। হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যাতে শীর্ষ নেতৃত্বকে কোনো সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব না হয়।
এই নজিরবিহীন হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এই শূন্যতা দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েকশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর সত্য হলে তা কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি একটি সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।