চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান সেবাটির উদ্বোধন করেন © টিডিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব করতে চাকসুর উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে আবার চালু করা হয়েছে জোবাইক সেবা। প্রাথমিকভাবে ১০টি ইলেকট্রিক প্যাডেল-অ্যাসিস্ট বাইক নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এটি উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ৪০ দিনের জন্য ১০টি প্যাডেল-অ্যাসিস্ট জোবাইক চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পাঁচটি জোনে এসব বাইকের জন্য পার্কিং সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জোবাইকের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে বাইক চালু ও বন্ধ করতে পারবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রতি মিনিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা।
চাহিদা ও ব্যবহারকারীদের সাড়া বিবেচনায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় ১০০টি বাইক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তখন শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া প্রতি মিনিট ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঞা বলেন, ২০১৯-২০ সালের দিকে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক সেবা চালু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেবাটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা সেবাটি আবার চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালে জোবাইকের সিইও মেহেদী রেজার সঙ্গে আলোচনা করে সেবাটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জোবাইক চালু করা হয়েছে।
জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী রেজা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক আবার চালুর দাবিতে ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীরা একটি পিটিশন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চাকসু নেতারা এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে জোবাইক আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছে। এবার প্রচলিত প্যাডেল সাইকেলের পাশাপাশি ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) সেবাও যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের চাহিদার ভিত্তিতে আগামী ৪০ দিনের মধ্যে ১০০টি প্যাডেল সাইকেলের পাশাপাশি আরও ৫০টি ই-বাইক সংযোজন করা হবে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২০টি নির্ধারিত পার্কিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জো ক্যাফে নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জোবাইক সেবা চালু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে মেহেদী ধন্যবাদ জানাই। প্রথমবার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে তারা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। তবে এবার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঞা, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন এবং জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা।