ছাত্রদলের দুই বহিষ্কৃত নেতা © সংগৃহীত
ভোলার বোরহানউদ্দিনে জন্মদিনের দাওয়াতের কথা বলে এক যুবককে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর, দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদকদ্রব্য সামনে রেখে ভিডিও ধারণ এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে টবগী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাংগঠনিকভাবে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন—টবগী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান পলিন এবং সহদপ্তর সম্পাদক মো. ইমন হাওলাদার।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জন্মদিনের দাওয়াত দেওয়ার কথা বলে এক যুবককে ডেকে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামনে মাদকদ্রব্য রেখে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বোরহানউদ্দিন উপজেলা শাখার জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেহেদী হাসান পলিন ও ইমন হাওলাদারকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠনের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত দুই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা মামলার অগ্রগতি কী—তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।