অব্যাহতিপ্রাপ্ত রাবি শিক্ষক সুজন সেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি একাংশ শিক্ষার্থীদের

১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ PM
সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান © টিডিসি ফটো

দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে একই বিভাগের ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের একাংশ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।  

স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে গঠিত সংশ্লিষ্ট সকল তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ, তদন্তে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং কী কী প্রমাণের ভিত্তিতে বর্তমান শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রকাশ করা, ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা জানানো এবং অযোগ্য অবস্থায় প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন ও ওই সময়ে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বৈধতা ও দায়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার দাবি জানাচ্ছি। 

একই সঙ্গে বর্তমান দায়সারা শাস্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রকৃতি বিবেচনায় ড. সুজন সেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, অভিযোগগুলোর প্রকৃতি, তদন্তে প্রমাণিত অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলন এবং দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রেক্ষাপটে ড. সুজন সেনের জন্য স্থায়ী বহিষ্কারই উপযুক্ত ও ন্যায়সংগত শাস্তি। আমরা কোনো ব্যক্তিকে প্রতিহিংসার কারণে শাস্তি দেওয়ার দাবি করছি না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যে নৈতিকতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন, সেসব মানদণ্ডের আলোকে বর্তমান শাস্তি অপর্যাপ্ত বলে আমরা মনে করি। 

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় পছন্দের শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়াসহ অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনতি (ডিমোশন) করা হয়।  

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এই বিষয়টা ঝুলিয়ে রেখেছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর এরকম সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে প্রহসন ছাড়া কিছুই না। আমরা আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটা স্মারকলিপি দিলাম। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভরসা জায়গা হিসেবে একটা সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে আসবে।

ট্যাগ: রাবি
ককরোচদের আন্দোলনের মধ্যেই প্রকাশ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ঝালকাঠিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জা…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে বাসায় আগুন, ২ শিশুসহ দগ্ধ একই পরিবারের চারজন
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষকের পাশে কওমি স্কলার শামীম…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রূপে আবির্ভূত হয়েছে
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ঋতুস্রাব-গর্ভাবস্থায় ছুটি নেই, বাধ্য হয়ে জরায়ু বাদ দিচ্ছেন …
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬