ঢাকার ৮৩% স্কুলগামী শিশুর স্ক্রিনটাইম সাড়ে ৪ ঘণ্টা, মানসিক সমস্যায় দুই-পঞ্চমাংশ

১৪ মে ২০২৬, ০৭:১০ PM
ঢাকার ৮৩% স্কুলগামী শিশুর স্ক্রিনটাইম সাড়ে ৪ ঘণ্টা

ঢাকার ৮৩% স্কুলগামী শিশুর স্ক্রিনটাইম সাড়ে ৪ ঘণ্টা © সংগৃহীত

ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডিজিটাল স্ক্রিন বা ডিভাইসের ব্যবহার। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুরা অনিদ্রা, স্থূলতা, মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি মারাত্মক মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ঢাকার স্কুলগামী শিশুদের একটি বড় অংশই দৈনিক নির্ধারিত সীমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় কাটায় স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের পর্দায়।

গবেষণাটি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার তিনটি বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যমসহ মোট ছয়টি স্কুলের ৪২০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত হয়, যাদের বয়স ৬ থেকে ১৪ বছর। এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ‘জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ফেস-টু-ফেস সাক্ষাৎকার, শারীরিক পরিমাপ এবং পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যবহার করে শিশুদের ঘুমের মান, আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা মূল্যায়ন করেছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৮৩ শতাংশ শিশুই প্রতিদিন গড়ে ৪.৬ ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুপারিশকৃত সময়সীমা হলো মাত্র ২ ঘণ্টা। এই অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৮০ শতাংশই প্রায়ই মাথাব্যথায় ভোগে এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশুর চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুরা রাতে গড়ে মাত্র ৭.৩ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের সুস্থ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার তুলনায় বেশ কম। দীর্ঘমেয়াদি এই ঘুমের ঘাটতি শিশুদের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং শেখার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষকের ‘শাসনে’ বিপর্যস্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ২ জনই এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছে, যার মধ্যে রয়েছে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, অতিচঞ্চলতা (হাইপারঅ্যাক্টিভিটি) এবং আচরণগত জটিলতা। এছাড়া দীর্ঘ সময় বসে স্ক্রিন দেখার কারণে শিশুদের খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, যা তাদের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় ১৪ শতাংশ শিশুর মধ্যেই স্থূলতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাতের বেলা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার মস্তিষ্কে উদ্দীপনা তৈরি করে প্রাকৃতিক ঘুমের চক্রকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

গবেষক দলের প্রধান এবং আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, মাথাব্যথা, চোখের অস্বস্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া কিংবা ঘরের বাইরের কার্যকলাপে আগ্রহ হারানোর মতো লক্ষণগুলোকে অভিভাবকদের কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো মূলত স্ক্রিন আসক্তির প্রাথমিক সংকেত। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন

আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, আধুনিক জীবন ও শিক্ষার অংশ হিসেবে ডিজিটাল ডিভাইস এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে শিশুদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের স্ক্রিন টাইম দৈনিক ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দেন যেন তারা শিশুদের মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া, বাগান করা এবং পারিবারিক আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রযুক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা সমাধান নয়, বরং ঘর ও বিদ্যালয় উভয় ক্ষেত্রেই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়।

রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে বঞ্চিত করা মানবতার ওপর আঘাত: রিজভী 
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
দ্রুত সেবা, বিমান টিকেট-হোটেল বুকিংয়ে ছাড়সহ প্রবাসী কার্ডে …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা কলেজে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গরু ভোজ কাল
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
দুপুরে চুরির দায়ে ১০০ রাকাত নামাজ পড়াল গ্রামবাসী, রাতে মাদক…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
ইতোমধ্যেই নিশ্চিত ৫৪৬ কোটি টাকা, ফাইনাল জিতলে কত পাবেন মেস…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
গণপরিবহনে যুক্ত হবে ১ হাজার ৪০০ বৈদ্যুতিক বাস
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence