স্বাস্থ্যের ডিজি
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস © সংগৃহীত
লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। প্রথম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা ৩০ উপজেলা ও ১৩ পৌরসভায় ইতোমধ্যে হামের সংক্রমণের হার কমেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মহাপরিচালক তার বক্তব্যের শুরুতে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগের কারণে শিশুদের মৃত্যুতে মর্মাহত জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলা এবং ১৩টি পৌরসভা, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী প্রতিটি পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রেন্ড বদলে সময়ের আগেই আক্রমণে হাম, এক হাসপাতালেই মৃত্যু ২২ জনের
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে ১ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিএইচআইএস২-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৯ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ শতাংশ শিশুকে আমরা ইতোমধ্যে টিকা প্রদান নিশ্চিত করেছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রথম পর্যায়ের যে ৩০টি উপজেলা এবং ১৩টি পৌরসভায় আমরা টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছি, সেখানে শিশুদের মাঝে হামের সংক্রমণের হার খুবই কম পরিলক্ষিত হচ্ছে। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষায় একটি সফল ক্যাম্পেইন আমরা পরিচালিত করতে পারব।
স্বাস্থ্য ডিজি আরও বলেন, ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া রুটিন টিকাদান কার্যক্রমের টিকা মাঠ পর্যায়ে বিদ্যমান রয়েছে এবং ইপিআই রুটিন টিকা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমাদের হাতে এসে পৌঁছবে। ধারাবাহিক ভাবে সকল ইপিআই টিকাসমূহ আমাদের সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে।
আরও পড়ুন: হাম ছড়িয়েছে ৯১ শতাংশ জেলায়, ডব্লিউএইচওর উচ্চ ঝুঁকি সতর্কতা জারি
এ সময় এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইউনিসেফ, গ্যাভি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ব্র্যাক, রেড ক্রিসেন্ট, পাথ, যুক্তরাষ্ট্র সরকারসহ অংশীজনকে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ ও সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শতভাগ সফল হবে এবং কোনো শিশুই টিকার বাইরে থাকবে না—এমন প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম পামি, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মো. রুমিসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।